প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। একাধিকবার পরাজয়, দলীয় বিদ্রোহ ও মনোনয়নবঞ্চনার অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসন থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। এমপি হওয়ার পরই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাকে।
ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে এদিন বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি এবং নিজ দলের একটি অংশের বিরোধিতার মুখেও ফকির মাহবুব আনাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মধুপুরে এসে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এবারের নির্বাচনে সেই প্রচেষ্টার ফল মিলেছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সন্তান ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, যিনি ফকির স্বপন নামেই বেশী পরিচিত। তার চাচা আফাজ উদ্দিন ফকির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর–ভূঞাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আরেক চাচা প্রখ্যাত গীতিকার লোকমান হোসেন ফকির।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে নিজ এলাকা টাঙ্গাইল-২ আসন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। পরে দলীয় নেতাদের পরামর্শে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনে সক্রিয় হন। ২০০০ সালের দিকে মধুপুরে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং সেখানে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। তবে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তার এই আগমন ভালোভাবে নেয়নি।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান ফকির মাহবুব আনাম। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির নেতা আবদুল গফুর (মন্টু) বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলীয় ভোট বিভক্ত হয় এবং তিনি পরাজিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পেলেও জয় পাননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। এরপরও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি। তবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হন। দলের আরেক বহিষ্কৃত নেতা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আসাদুল ইসলামও প্রার্থী হন। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ফকির মাহবুব আনাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফি পান ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে ৪৫ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি।
নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে পেশায় ব্যবসায়ী ফকির মাহবুব আনামের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তার বার্ষিক আয় ২২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
তার স্ত্রী রেশমা আনামের সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৫৮ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। তাদের দুই সন্তানের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ৭৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ও ৬৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে হলফনামায়।
ইখা