লক্ষ্মীপুরের দিঘলী এলাকায় কিশোর আহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা দাবি করেছেন।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আহত কিশোর রিফাত হোসেনের ফুফাতো ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেক্রেটারি মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। মামলায় জামায়াত নেতা ফরহাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, রাকিব হোসেন, জাকির হোসেন ও আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে হামলা করে রিফাতকে আহত করা হয়। এতে তার দুই হাত রক্তাক্তসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, রাকিব হোসেন, জাকির হোসেন ও আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন জানান, নির্বাচনের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাবশত মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা প্রত্যাহার না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাহবুবুর রহমান নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছরের বেশি। আহত রিফাত অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তার ভাষ্য, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ব্যক্তিগত বা প্রেমসংক্রান্ত বিরোধ থেকেও ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায়নি।
দিঘলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাসউদুল করিম জানান, আহত রিফাতকে হাসপাতালে দেখতে গেলে তিনি হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রিফাত হোসেন জানান, কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও রড দিয়ে তাকে মারধর করেন এবং ব্লেড দিয়ে হাতে আঘাত করেন। তবে হামলাকারীদের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি বলে জানান।
মামলার বাদী মো. রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, তার ফুফাতো ভাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি মামলা করেছেন। হামলায় জামায়াতের লোকজন জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তিনি ‘গুজব’ বলে উল্লেখ করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চন্দ্রগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জায়েদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইখা