কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান কিংবা অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত উচ্ছেদের সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের তথ্য প্রচার এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বাস্তবে সেই সমন্বয় দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন সংবাদকর্মীরা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মানিকারচর বাজারে অবৈধভাবে দখল করা ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের আগাম অবহিত না করায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও উচ্ছেদ অভিযান সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের কার্যক্রম গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে যেমন জনসচেতনতা বাড়ে, তেমনি প্রশাসনের কর্মকাণ্ডেও স্বচ্ছতা আসে। কিন্তু সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত না করে কেবল কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা করা হলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ জনস্বার্থেই পরিচালিত হয়। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। গণমাধ্যমকে যথাযথভাবে অবহিত রাখা হলে প্রশাসনের পদক্ষেপের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে এবং তা প্রশ্নাতীত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন শিক্ষক বলেন, "প্রশাসন ও গণমাধ্যম পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থ রক্ষায় তারা সহযাত্রী। উচ্ছেদ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মতো স্পর্শকাতর কার্যক্রমে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গুঞ্জন বা সন্দেহ দূর হবে।"
এ বিষয়ে মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আক্তার বলেন, "ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ জনস্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে; এখানে গোপনীয়তা বা পক্ষপাতের সুযোগ নেই। অনেক সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের কারণে আগেভাগে সবাইকে জানানো সম্ভব হয় না। তবে গণমাধ্যম আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আরও সমন্বয় করে কাজ করার চেষ্টা থাকবে, যাতে প্রশাসনের কার্যক্রম সঠিকভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা যায়।"
এনআই