এইমাত্র
  • নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার
  • শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: অদৃশ্য বিপদ ঘরে বাইরে
  • আর্থিক সংকটে অনিশ্চিত ভর্তি, ছাত্রদল নেতার সহায়তায় মুনায়েমের স্বপ্নপূরণ
  • প্রধানমন্ত্রীর ১০ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, কে কোন দায়িত্বে
  • বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচন ৯ এপ্রিল
  • শেখ রেহানার স্বামীর আয়কর নথি জব্দ
  • চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩
  • শ্রীনগরে ট্রেনের ধাক্কায় কৃষি কর্মকর্তার মৃত্যু
  • তারাগঞ্জে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সড়কের কাজ বন্ধ
  • পরিচ্ছন্ন উলিপুর কর্মসূচির উদ্বোধন
  • আজ মঙ্গলবার, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: অদৃশ্য বিপদ ঘরে বাইরে

    সময়ের কণ্ঠস্বর রিপোর্ট প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
    সময়ের কণ্ঠস্বর রিপোর্ট প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

    শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: অদৃশ্য বিপদ ঘরে বাইরে

    সময়ের কণ্ঠস্বর রিপোর্ট প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

    দেশে এখন শুষ্ক মৌসুম চলছে। বাতাসে কমে গেছে আর্দ্রতা, একইসাথে দিন দিন বাড়ছে তাপমাত্রা। এমন শুষ্ক আবহাওয়ায় ঘরবাড়ি, দোকান বা কারখানার আশপাশে থাকা দাহ্য বস্তু দ্রুত শুকিয়ে যায়। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের পরিসংখ্যানে এই প্রবণতা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। এই সময়ে সতর্ক না থাকলে সামান্য ভুলও অনেক বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।


    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, বিগত ২০২৫ সালে দেশে ২৭ হাজারের বেশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৫টি আগুনের খবর পেয়েছে সংস্থাটি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮৫ জন, আহত হয়েছেন কয়েক শ মানুষ। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও কয়েক শ কোটি টাকা। যদিও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস বিপুল পরিমাণ সম্পদ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে, তবুও প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডই রেখে গেছে মানবিক ও আর্থিক ক্ষতের দাগ।


    অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বৈদ্যুতিক ত্রুটি। মোট ঘটনার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের পেছনে রয়েছে অসুরক্ষিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, পুরোনো বা নিম্নমানের তার, অতিরিক্ত লোড এবং মাল্টিপ্লাগের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। এ ছাড়া সিগারেট বা বিড়ির আগুন, রান্নার চুলা, গ্যাস সিলিন্ডার কিংবা গ্যাস লাইনের লিক থেকেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এসব ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, কারণ আগুন ছড়ানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি থাকে।


    আর অগ্নিকাণ্ডের সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে থাকে ঘিঞ্জি বসতিগুলো। সম্প্রতি রাজধানীর একটি বড় বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে দেড় হাজারের মতো ঘর পুড়ে যায়। সংকীর্ণ গলি ও ঘনবসতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। একইভাবে শিল্পকারখানা ও গুদামেও অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ হয়েছে। একটি গার্মেন্টস কারখানা ও পাশের রাসায়নিক গুদামে আগুনে বহু মানুষের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সামান্য ঘাটতিও কত বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।


    সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটো ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে। গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। এদিন ভোরে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় নুরজাহান বেগম (রানি) নামের দগ্ধ এক নারীর মৃত্যু হয়। জরুরি চিকিৎসা নিতে ঢাকা যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা হাইওয়েতে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়েছে।


    ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে হালিশহর ফায়ার স্টেশনের তিনটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।


    গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আরও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ সময় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের ৪জন দগ্ধ হন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।


    জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সকাল ৬টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকা থেকে দগ্ধ অবস্থায় নারী শিশুসহ একই পরিবারে ৪জনকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে।


    পর পর সংঘটিত এই দুটি ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—শুষ্ক মৌসুমে শুধু বাইরের পরিবেশই ঝুঁকিপূর্ণ নয়, গ্যাস লাইন, রান্নাঘর বা ঘরের ভিতরেও আগুনের সোর্স থাকতে পারে, যা খুব ছোট ভুলেও বড় বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে।


    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগুন লাগার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আগেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়াই বেশি কার্যকর। ঘরবাড়িতে বৈদ্যুতিক তার ও সুইচবোর্ড নিয়মিত পরীক্ষা করা, অতিরিক্ত লোড এড়িয়ে চলা, রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডার ও সংযোগ লাইন ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি। অফিস ও কারখানায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সচল রাখা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং জরুরি নির্গমনপথ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।


    ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া অগ্নিকাণ্ড কমানো সম্ভব নয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত সহায়তার জন্য ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২—এ তথ্য সবার জানা থাকা প্রয়োজন। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়।


    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার মো. শাহজাহান শিকদার এ ব্যাপারে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে মানুষের মধ্যে একধরণের অসচেতনতা এবং আইন না মানার প্রবণতা।’


    তিনি বলেন, ‘বেশীরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ভবন নির্মাণে প্রচলিত অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন মানেন না অনেকেই।’ তিনি নতুন ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন মেনে ভবন তৈরীসহ সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শুষ্ক মওসুমে অগ্নিকাণ্ডের হার বেড়ে যায় উল্লেখ করে এ বিষয়েও সতর্ক থাকার ব্যাপারে সবার প্রতি আহ্বান জানান।


    শুষ্ক মৌসুম প্রতিবছরই আসে। কিন্তু আগুনে প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতি অনিবার্য নয়। একটি ঢিলা সংযোগ, অসাবধানভাবে ফেলা সিগারেটের অবশিষ্টাংশ, কিংবা অযত্নে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার—এসবই বড় দুর্ঘটনার সূচনা হতে পারে। সতর্কতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে নিজেকে, পরিবারকে এবং সমাজকে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…