এইমাত্র
  • ‘চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স চায় তরুণরা’
  • দেশের বহু মানুষ যাকাত দেন না, তাদের ঈমান নেই: ধর্ম উপদেষ্টা
  • সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন বিএনপির সাবেক এমপি মনজুর কাদের
  • সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি মোতায়েন
  • চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের গোড়া উপড়ে ফেলতে চাই: ডা. শফিকুর রহমান
  • সিরাজগঞ্জের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ঘরে অগ্নিসংযোগ
  • জামায়াতে যোগ দিলেন বরিশাল বিএনপির ২শ' নেতাকর্মী
  • সরকার গঠন করলে জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবো: নাহিদ ইসলাম
  • দাউদকান্দিতে বাসচাপায় নারী ও শিশুসহ নিহত ২
  • বিশ্বকাপের আগে মুখোমুখি অবস্থানে আইসিসি- ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন
  • আজ শনিবার, ১৮ মাঘ, ১৪৩২ | ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    নড়াইল-২ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

    মো. জান্নাতুল বিশ্বাস, নড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম
    মো. জান্নাতুল বিশ্বাস, নড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

    নড়াইল-২ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস

    মো. জান্নাতুল বিশ্বাস, নড়াইল প্রতিনিধি প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল-২ আসনে প্রচার–প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে ভোটের মাঠ। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

    স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নড়াইল-২ আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে সব মনোনয়ন বৈধ হলেও খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হান্নান সরদার মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় বর্তমানে আটজন প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।

    নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ (লাঙ্গল), গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী লায়ন নূর ইসলাম (ট্রাক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. শোয়েব আলী (ছড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম (কলস) এবং মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন (জাহাজ)।

    লোহাগড়া উপজেলা ও নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) দুটি পৌরসভা এবং ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নড়াইল-২ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৬ হাজার ১৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। লোহাগড়া উপজেলায় ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৬১৬ জন এবং নড়াইল সদর উপজেলার (আংশিক) এলাকায় ভোটার ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৮ জন।

    নড়াইল-২ আসনের নির্বাচনী ইতিহাসে নানা রাজনৈতিক উত্থান-পতন রয়েছে। ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ এবং ১৯৯৬ সালে বিএনপি এ আসনে জয়লাভ করে। ২০০১ সালে শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে জয় পায় বিএনপি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ, ২০১৪ সালে জোটসঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টি এবং পরবর্তী দুটি নির্বাচনে একই জোট জয় ধরে রাখে। সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    তবে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন বলে মনে করছেন ভোটাররা। তাঁদের মতে, বিএনপি প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদের ধানের শীষ, জামায়াত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চুর দাঁড়িপাল্লা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামের কলস প্রতীকের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি।

    উল্লেখ্য, গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলামকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁকে সমর্থন করার অভিযোগে নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, পৌর বিএনপির সভাপতি তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক মশিয়ার রহমান সান্টুকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    ভোটারদের মধ্যে এখন চলছে হিসাব-নিকাশ। সাধারণ মানুষ এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান, যিনি জনগণের পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নড়াইল-২ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখন অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের ফলাফলের।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…