ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেছেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন সেটিই সত্য হলো। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইরান। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার মৃত্যুতে ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের এই সংকটপূর্ণ সময়ে প্রশ্ন হলো, খামেনির মৃত্যুতে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন! বিবিসির খবর, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি, আলিরেজা আরাফি, মেহদি মিরবাগেরি ও হাসান খোমেনি।
মোজতবা খামেনি প্রভাবশালী ইসলামিক রেভুলশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। তবে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার শিয়া ধর্মীয় কাঠামোতে অপছন্দনীয়, এবং তার আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ নেই। আরাফি বিশেষজ্ঞ পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য পরিচিত হলেও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা সীমিত। কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত বাগেরি। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা খোমেনির নাতি হাসান ধর্মীয় বৈধতা রাখলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে তার প্রভাব কম।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ৮৮ সদস্যের নির্বাচিত ধর্মীয় পরিষদ নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৯ সালে এই কাজটি একবারই করা হয়েছিল। রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হন আলি খামেনি। সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে পুরুষ, উচ্চপদস্থ আলেম, রাজনৈতিক দক্ষ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি অনুগত হতে হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে করণীয় বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন সদস্যের একটি পরিষদ সাময়িকভাবে দেশের দায়িত্ব নেবে। এই পরিষদে থাকবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম। তারা অন্তর্বর্তীকালীনভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পরিচালনা করবেন যতক্ষণ না নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
ইখা