“বাবা, দুপুরে আসার সময় আমার জন্য কমলা নিয়ে আসিও।”—সাত বছরের শিশু ইরার এই ছোট্ট আবদার মেটাতে দুপুরে আধা কেজি কমলা নিয়ে বাড়ি ফেরেন দিনমজুর বাবা মনিরুল ইসলাম। মেয়ে স্কুল বা বাইরে থেকে ফিরে খাবে ভেবে পরম মমতায় কমলার খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো একটি পাত্রে সাজিয়ে রাখেন তিনি। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও আদরের ইরা আর বাড়ি ফেরেনি।
বাবা যখন মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় কমলার পাত্র সাজিয়ে বসেছিলেন, তখন সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নরপিশাচ বাবু শেখের পাশবিকতার শিকার হচ্ছিল শিশু ইরা। কিছুক্ষণ পর খবর আসে, ইকোপার্কে ইরাকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এই খবর শোনার পর থেকে মনিরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী রোকেয়া বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রিয় সন্তানকে কমলা খাওয়াতে না পারার আজন্ম আক্ষেপ তাড়িয়ে বেড়াবে এই বাবাকে।
নিহত ইরার বড় বোন জান্নাতুল ইশা ইসফা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার বোনকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। যতক্ষণ ঘরে থাকতাম, ওর সাথে খুনসুটি আর ঝগড়া চলত। আজ সেই স্মৃতিগুলো আমি কীভাবে ভুলব? কে আমাকে এখন আপু বলে ডাকবে?”
গত রবিবার দুপুরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় ইরাকে উদ্ধার করে স্থানীয় যুবকরা। তাকে দ্রুত সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়। সোমবার ইরার শরীরে দুই দফা অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু গভীর রাতে শ্বাসনালিতে সমস্যা দেখা দিলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার ইরার জানাজা শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাবু শেখের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে। খুনি বাবু শেখের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মা রোকেয়া বেগমসহ এলাকাবাসী।
এনআই