বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘একাত্তর হচ্ছে আমাদের ভিত্তি, মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকে না। একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাম প্রগতিশীল দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’-এর নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করতে যান। এ সময় ফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তাঁরা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানাতে এবং শোকবইয়ে মতামত জানাতে গিয়েছিলেন। পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘তারেক রহমান বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে ও জনগণের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী বা সংশয়বাদী সবাই থাকবে। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।’
বৈঠকে বাম নেতারা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
তাঁরা দাবি জানান, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি যেন রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। জামায়াতে ইসলামীর ‘জাতীয় সরকার’ গঠনসংক্রান্ত সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে কথা উঠলে তারেক রহমান পরিষ্কার করেন, এ বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির কোনো আলোচনা হয়নি।
তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাইরে হয়তো তারা (জামায়াত) বলছে, কিন্তু আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি। আমাদের শুধু স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিষয়ে কথা হয়েছে।’
বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ভবিষ্যতে আপনারা সরকারে গেলে হয়তো আমরাই (গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট) বেশি সমালোচনা করব।
জবাবে তারেক রহমান ইতিবাচকভাবে বলেন, ‘অবশ্যই সমালোচনা থাকবে। সমালোচনা না থাকলে গণতন্ত্র হয় কিভাবে? সমালোচনাও থাকবে আবার আলোচনাও চলবে।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ জাসদসহ ৯টি বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠিত হয়েছে।
একই দিন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে চার সদস্য তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শোক জানিয়েছেন।
বৈঠকে দলের সদ্যঃপ্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তারেক রহমানকে সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানান তাঁরা। এ সময় দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, জেনারেল সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সাক্ষাৎ করে শোক জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমানের সঙ্গে। তাঁরা ছাড়া নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোক প্রকাশ করেন।
এবি