কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, “মনটা আজকে ভালো নেই। এখানে মিটিং করতে এসে একটি পরিচিত মুখ দেখতে পাচ্ছি না, যা আমার জন্য কষ্টের বিষয়।”
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে মিঠামইন অডিটোরিয়ামে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি এখানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের মুখটি দেখতে পাচ্ছি না। গত ২০ বছর ধরে জালেমদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছে, তাদের মধ্যে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরও ছিলেন। নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা ও ঝুঁকি নিয়ে তিনি রাজনীতি করেছেন।”
জাহাঙ্গীরের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এমপি ফজলুর রহমান বলেন, “একটা ভুলের কারণে মানুষের সবকিছু শেষ হয়ে যায় না। নিশ্চয়ই তিনি কোনো ভুল করেছেন, না হলে দল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিত না। তবে আমি মনে করি, সময় হলে তিনি আবার ফিরে আসবেন। ভুলের শাস্তি হবে, কিন্তু জীবন বা রাজনীতি এখানেই শেষ নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি দলের বিপরীতে যেতে চাই না। তবে জাহাঙ্গীর ফিরে আসুক—এটা আমি চাই। আমার একটা ছেলে জেলখানায় আছে, তাও আবার অসুস্থ। সে স্ট্রোক করেছে। এই অবস্থায় তাকে জেলে থাকার কথা ভাবলেও কষ্ট লাগে। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ, মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী এবং উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, মিঠামইন উপজেলার কামালপুর এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে রোপণ করা ২০টি মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মিঠামইন উপজেলা প্রকৌশলী ফয়জুর রাজ্জাক বাদী হয়ে থানায় এ মামলা করেন।
ওই দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকা থেকে জেলা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে তাকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ইখা