মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক শাহজালাল (৩৭) হত্যাকাণ্ডের ৩৫ দিন পর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের চোরাই অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
পুলিশ সুপার বলেন, নিহত শাহজালাল ও অভিযুক্তরা পরস্পর পূর্বপরিচিত ছিলেন এবং সবাই পেশায় রিকশাচালক। অভিযুক্ত ইব্রাহিম নেশাসক্ত ছিল।
অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাহজালালকে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকা থেকে ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৭) এবং একই দিন রাতে গজারিয়ার ভবেরচর এলাকা থেকে ফাহিম (২৪)–কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার দাউদেরখাড়া এলাকায় ফাহিমের বাড়ি থেকে নিহতের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে শাহজালালকে অচেতন করা হয়। এরপর তার হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি কুমিল্লায় নিয়ে গিয়ে ফাহিমের কাছে বিক্রি করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর গজারিয়া উপজেলার মধ্য বাউশিয়া এলাকার কাজলী নদী থেকে শাহজালালের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত শাহজালাল গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের বক্তারকান্দি গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।
এনআই