ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশ ও লাইসেন্স দেওয়ার নামে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নওগাঁ সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’র (টিটিসি) বিরুদ্ধে। পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি দুই হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। টিটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ সনি ও মাহবুব আলম টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ প্রশিক্ষণার্থীদের।
প্রশিক্ষণার্থীদের কাছে থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ না জানলেও ড্রাইভিং প্রশিক্ষকদের দাবি, উত্তোলনকৃত টাকা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) অফিসে দিতে হয়। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে প্রশিক্ষণার্থীদের ফেল করে দেওয়া হয়।
জানা যায়, স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইআইপি) প্রকল্পের আওতায় ফ্রিতে চার মাস মেয়াদি ‘মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক মেইন্টেনেন্স’ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বছরে তিনবার হয় এই প্রশিক্ষণ। জনপ্রতি প্রতিদিন ১৫০ টাকা ভাতা বরাদ্দ। এরমধ্যে যাতায়াত ভাড়া ১শ টাকা আর নাস্তা বাবদ ৫০টাকা। গত ডিসেম্বর মাসে দুই ব্যাচে ৪৯জন প্রশিক্ষণার্থী চার মাস ব্যাপী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ শেষ হয়। পরে ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশ ও লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ অফিস টাকা দিতে হবে বলে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হয় প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে।
ভুক্তভোগী আহসান হাবিব ও শামীমসহ কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৯ ডিসেম্বর লাইসেন্স দেওয়ার জন্য বিআরটিএ’তে পরীক্ষা হয়। এরআগে ২৮ডিসেম্বর ড্রাইভিং প্রশিক্ষক স্যাররা দুই হাজার টাকা করে সবার কাছ থেকে তোলেন। পরে জানতে চাইলে বলা হয় বিআরটিএ’তে পরীক্ষার বিষয়ে এই টাকা। অথচ এই কোর্স করতে কোথায় কোন টাকা দিতে হয় না। সম্পন্ন ফ্রি জেনেই আমরা ভর্তি হয়েছিলাম।’ বিষয়টা তদন্তের দাবি তাঁদের।
এসব বিষয়ে ড্রাইভিং প্রশিক্ষক ওয়ালীউল্লাহ সনি ও মাহবুব আলম বলেন, ‘বিআরটিএ অফিসকে টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ড্রাইভিং পরীক্ষায় প্রশিক্ষণার্থীদের ফেল করে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে কোন ঝামেলায় না পড়ে এজন্য কিছু টাকা তোলা হয়। সেই টাকা দিয়ে প্রশিক্ষণার্থীসহ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে তাদের (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়। খাওয়া-দাওয়া শেষে তাদের খুশি করতে (বিআরটিএ) কর্মকর্তাদের হাতে টাকা দেওয়া হয়। এই নিয়ম বহুদিন ধরে চলে আসছে। বিআরটিএ-এর কাছে আমরাও জিম্মি।’
নওগাঁ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সামছুজ্জামান বলেন, ‘আমার জানামতে কোন প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকেই কোন টাকা নেয়া হয়না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
টিটিসির ড্রাইভিং প্রশিক্ষকদের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে নওগাঁ বিআরটিএ-এর সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মো: রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আমি নওগাঁতে নতুন। বিষয়টি জানা নেই। আর পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার নামে টাকা গ্রহণের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কোর্স কমিটির সভাপতি জান্নাত আরা তিথি বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষায় পাশ করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নেই। যদি ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ইখা