এইমাত্র
  • বাংলাদেশ অবশ্যই ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিবে: ফিফা সভাপতি
  • বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা
  • নির্বাচনি ঐক্যের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত
  • দেশজুড়ে ৫৬ দীর্ঘমেয়াদি ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মোতায়েন শুরু
  • গাজার জন্য 'বোর্ড অব পিস' গঠন করলেন ট্রাম্প
  • রোনালদোর আয় মেসির দ্বিগুণ
  • বোরকা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে লন্ডনের মেয়রপ্রার্থী
  • কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে জামায়াত
  • ইসিতে অষ্টম দিনের মতো চলছে আপিল শুনানি
  • দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটে আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন
  • আজ শনিবার, ৪ মাঘ, ১৪৩২ | ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    অনুমোদনের আগে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, প্রশ্নবিদ্ধ চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের গণশৌচাগার ইজারা

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

    অনুমোদনের আগে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, প্রশ্নবিদ্ধ চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের গণশৌচাগার ইজারা

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

    রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ফের গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। চট্টগ্রাম নতুন রেলস্টেশনে অবস্থিত একটি গণশৌচাগার ইজারা প্রদানের দরপত্রকে কেন্দ্র করে এমন সব অসামঞ্জস্য, সময়গত গড়মিল ও প্রক্রিয়াগত ব্যত্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে, যা কেবল প্রশাসনিক অবহেলার নয়, বরং সুপরিকল্পিত দুর্নীতির দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসিয়াল নথিতে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অনুমোদন ও স্বাক্ষরের আগেই রহস্যজনকভাবে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যা দেশের প্রচলিত সরকারি ক্রয় ও ইজারা ব্যবস্থাপনার ন্যূনতম নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। অভিযোগে বলা হচ্ছে, নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ইজারা পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন এবং উচ্চমান সহকারী নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

    এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম.আর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান। আবেদনে তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করার পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

    লিখিত অভিযোগে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম নতুন রেলস্টেশনে অবস্থিত গণশৌচাগার এক বছরের জন্য ইজারা প্রদানের উদ্দেশ্যে “ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তি” শীর্ষক নথিতে বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন স্বাক্ষর করেন ১১ জানুয়ারি। ওই নথি প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) দপ্তরে পৌঁছায় ১২ জানুয়ারি। অথচ বিস্ময়কর ও প্রশ্নবিদ্ধভাবে এর বহু আগেই, অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ওই দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আরও গুরুতর বিষয় হলো, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং।

    এর অর্থ দাঁড়ায়, যে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি অফিসিয়ালভাবে অনুমোদনই পায়নি, তা আগেভাগেই জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রশাসনিক ভাষায় যাকে বলা হয় ‘প্রি-পাবলিকেশন অব টেন্ডার নোটিস উইদাউট অথরাইজেশন’, যা সরাসরি দরপত্র বিধিমালার লঙ্ঘন এবং ফৌজদারি অপরাধের উপাদান বহন করে।

    এখানেই শেষ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যেসব জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, সেসব বিজ্ঞপ্তির কোনো অস্তিত্ব সংশ্লিষ্ট পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ বা ই-পেপারে পাওয়া যায়নি। ফলে আদৌ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল কি না, নাকি কাগজে-কলমে দেখানোর জন্য পরবর্তীতে ব্যাকডেট দিয়ে বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয়েছে, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    আবেদনকারী মো. মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সময়গত অসামঞ্জস্য, নথিগত গড়মিল এবং প্রকাশনার অস্বচ্ছতা কাকতালীয় নয়। বরং কোনো একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই দরপত্র প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার মৌলিক দর্শন ভূলুণ্ঠিত হয়েছে।

    আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই কার্যক্রম পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ)-২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর)-২০২৫-এর একাধিক ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল, যা দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    এই প্রেক্ষাপটে আবেদনকারী দাবি জানান, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম নতুন রেলস্টেশনের গণশৌচাগার ইজারাসংক্রান্ত সকল কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত রাখা হোক, যাতে প্রক্রিয়াটি আরও বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

    দরপত্র বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, চট্টগ্রাম রেলওয়ে নতুন স্টেশনে নির্মিত গণশৌচাগারের মহিলা অংশে তিনটি টয়লেট ও একটি বেসিন এবং পুরুষ অংশে ছয়টি টয়লেট, একটি বেসিন, তিনটি অজুখানা ও দুটি প্রস্রাবখানা রয়েছে। এসব স্থাপনা এক বছরের জন্য ব্যবহারের মাশুল আদায়ের উদ্দেশ্যে ইজারা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৪০০ টাকা নগদ মূল্যে দরপত্র দলিল ও শর্তাবলী আগামী ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর ১২টা পর্যন্ত অফিস চলাকালীন সময়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ (চট্টগ্রাম) এবং প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব), চট্টগ্রাম দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা যাবে। ২০ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে দরপত্র জমা দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সিডিউল বিতরণ নিয়েই দেখা দেয় চরম বিশৃঙ্খলা।

    সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে সিডিউল বিক্রির কথা উল্লেখ থাকলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সেখানে কোনো সিডিউল পাঠানো হয়নি। ১২ জানুয়ারি দপ্তর থেকে ফোন করার পর পরদিন ১৩ জানুয়ারি সিডিউল পাঠানো হয়। যা দরপত্র প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির পরিপন্থি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সময়ের কন্ঠস্বর-কে বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন অনিয়মের অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “টেন্ডারে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে। তারিখ বসানোর সময় হয়তো কোনো ভুল হয়ে থাকতে পারে। সিডিউল বিক্রির জন্য এখনও সময় আছে, ভুল থাকলে সংশোধন করা যাবে।”

    তবে প্রশাসনিক ও আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরপত্র বিজ্ঞপ্তির তারিখ ‘ভুল’ হওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি পুরো প্রক্রিয়ার বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

    রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী তানভীরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, “এমন একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি, তবে এখনো আমার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি।”

    একই অভিযোগের অনুলিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম), চট্টগ্রামের নিকট পাঠানো হয়েছে।

    একই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, “এ ধরনের একটি অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। তবে অফিসিয়ালি ফাইল না আসা পর্যন্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ফাইল এলে এটি সাধারণ ভুল নাকি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…