বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের পারিশ্রমিক ও আয়ের হিসেব বরাবরই আলোচনার বিষয়। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি কোন খেলোয়াড় আর্থিকভাবে কতটা এগিয়ে তা জানতে সমর্থকদের আগ্রহের কমতি নেই।
এনিয়ে প্রতিবছরই তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস বিজনেস বিষয়ক ওয়েবসাইট স্পোর্তিকো। তাদের প্রকাশিত ২০২৫ সালেও আয়ের হিসেবে নিজের প্রভাব ধরে রেখেছে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
আটটি ভিন্ন খেলার ১০০ জন তারকাকে নিয়ে তৈরিকৃত এই তালিকায় শীর্ষস্থানে আছেন রোনালদো। তালিকা অনুযায়ী, গত বছরে তার মোট আয় ছিল ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই আয়ের পরিমাণ তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির আয়ের দ্বিগুণ। মেসি এ সময়ে আয় করেছেন ১৩০ মিলিয়ন ডলার।
রোনালদোর মোট আয়ের বড় অংশ এসেছে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসর থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক থেকে। ক্লাব ফুটবল খেলেই তিনি আয় করেছেন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। এর বাইরে বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে তার আয় হয়েছে আরও প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার।
এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে চমক দেখিয়েছেন মেক্সিকান বক্সার ক্যানেলো আলভারেজ। বক্সিং রিংয়ে নামার জন্যই প্রতি ম্যাচে তিনি ৩৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি মেক্সিকোতে তার মালিকানাধীন জ্বালানি ব্যবসা ‘ক্যানেলো এনার্জি’ বর্তমানে শতাধিক গ্যাস স্টেশনে বিস্তৃত, যা তার আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছেন তিনি। যদিও মাঠের বাইরের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও জনপ্রিয়তায় মেসি এখনো বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়াবিদদের একজন, তবুও আয়ের দিক থেকে রোনালদোর সঙ্গে ব্যবধান বেশ বড়।
ফুটবলারদের মধ্যে সৌদি ক্লাব আল-ইত্তিহাদে খেলা করিম বেনজেমা ১১৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে আছেন তালিকার সপ্তম স্থানে। এছাড়া ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ৯৫ মিলিয়ন ডলার নিয়ে অবস্থান করছেন দ্বাদশ স্থানে। নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড ৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করে আছেন ১৮ নম্বরে।
স্পোর্তিকোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকার শীর্ষ ১০০ ক্রীড়াবিদের সম্মিলিত আয় ছাড়িয়েছে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে ফুটবল, বক্সিং, বাস্কেটবলসহ বিভিন্ন খেলায় তারকাদের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক মূল্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
আরডি