ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চরাঞ্চলে অবস্থিত চর বেতাগৈর ইউনিয়নে সেচযন্ত্রের মোটর চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ১ মাসে ইউপি’র ৩টি গ্রাম থেকে প্রায় শতাধিক মোটর চুরি হয়েছে। কোথাও মোটর চুরির সাথে সাথে ট্রান্সফরমার চুরিও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনেক কৃষক টাকার অভাবে নুতন মোটর কিনতে পারছেনা। ফলে ওই এলাকার কয়েক’শ একর জমিতে এবার বোরোধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চর কামটখালি গ্রাম থেকেই ৫০টি মোটর চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোন কোন কৃষক মোটর কিনে পানি সেচ চালু করলেও পুনরায় চুরির ভয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
সরজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, গত এক মাসে ওই গ্রামের শাহজাহান,সিদ্দিক হোসেন,শিপন মিয়া সহ প্রায় ১৫ কৃষকের সেচ মোটর চুরি হয়েছে। বীর কামটখালী গ্রামের রিটন মিয়ার স্ত্রী নাসিমা আক্তার জানান, তার স্বামী সন্ধ্যা বেলায় মোটর চালু করে পাশের বাজারে চা খেতে যান, কিছুক্ষণ পরে এসে দেখেন মোটরটি নেই। এখন নুতন একটি কিনে সেচ দিচ্ছেন, কিন্তু পুনরায় চুরির ভয়ে সন্ধ্যাবেলায় সেটি খুলে বাড়িতে এনে রাখেন।
স্থানীয় একটি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুর রহমান জানান,গত আটদিন আগে তার একটি সেচ মোটর চুরি হয়েছে। মোটর চুরি হওয়া নূরুল ইসলামের স্ত্রী খুকি আক্তার বলেন, এইবার কিবায় যে ধান চাষ করবাম হেইডা মাথায় ধরেনা’।
চর কোমরভাঙ্গা গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, কৃষক আল-আমিন শেখ, খোকন শিকদার, হবি শিকদার,ফজলুল শিকদার সহ প্রায় ৩০-৪০ জনের মোটরও গত ১ একমাসে চুরি হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম মোটর চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চুরি হলেও চোর ধরা পড়ছেনা। তাই চুরির বিচার করা যাচ্ছেনা। সন্দেহের বশে তো আর কাউকে চোর সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া যায়না। তবে তিনি কৃষকদের সর্তক থাকতে বলেছেন।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল-অমিন জানান, তিনি এখানে নুতন এসেছেন। এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ তিনি পাননি, পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবেন।
এফএস