এইমাত্র
  • ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি নয় আয়ারল্যান্ড
  • লক্ষ্মীপুরে জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা
  • যশোরের শার্শায় ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে নতুন দিগন্ত
  • নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি
  • ফরিদপুর–১ আসনে শাহ জাফরের আপিল খারিজ, খন্দকার নাসিরের প্রার্থিতা বহাল
  • উত্তরার আজমপুর বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট, সবজির দামে দিশেহারা ক্রেতারা
  • প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবেন জামায়াত আমির
  • দেওয়ানগঞ্জে প্রকাশ্যে অবৈধ মাটি কাটার দৌরাত্ম্য
  • গাজীপুরে ৪ শতাধিক আ.লীগ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
  • বিকেলে সিইসির সঙ্গে মির্জা ফখরুলের বৈঠক
  • আজ রবিবার, ৫ মাঘ, ১৪৩২ | ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    কক্সবাজারে জ্বালানি অচলাবস্থা, গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

    শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার) প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ এএম
    শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার) প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ এএম

    কক্সবাজারে জ্বালানি অচলাবস্থা, গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত

    শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার) প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩ এএম

    পর্যটন শহর কক্সবাজারে হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি অটোগ্যাসের সংকট। এতে জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ অটোগ্যাস স্টেশনে ‘গ্যাস শেষ’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা যায়।

    অটোগ্যাসের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন এলাকায় রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সংকট। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও অনেক গ্রাহক গ্যাসের সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। কোথাও দোকানগুলোতে ‘গ্যাস নেই’ বলে ক্রেতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও সীমিত মজুত থাকলেও তা নির্দিষ্ট কিছু ক্রেতার জন্য গোপনে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। হোটেল–রেস্তোরাঁ, ছোট খাবারের দোকান ও আবাসিক ভবনগুলোতে রান্না কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

    গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশে এলপিজি সংকট চললেও কক্সবাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হঠাৎ করেই পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এতে অটোগ্যাসনির্ভর হাজারো পরিবহনচালক বিপাকে পড়েছেন। এই সংকট শুধু জেলা শহরে সীমাবদ্ধ নয়।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া, রামু, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার প্রায় সব উপজেলাতেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহনচালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

    শনিবার রাতে শহরের কালুর দোকান এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন নোহা মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও এলপিজিচালিত বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা।

    খরুলিয়া ঘাটপাড়া এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মুরাদ জানান, হঠাৎ গ্যাস না পাওয়ায় তাঁদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শুনেছি আশপাশের কোথাও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কাল গাড়ি নিয়ে বের হতে পারব কি না, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।’

    একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান উখিয়াগামী নোহা মাইক্রোবাস চালক মহিউদ্দিন। পথিমধ্যে গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় তিনি বিপাকে পড়েন। তিনি বলেন, ‘পাম্পে এসে জানতে পারি গ্যাস নেই। মনে হয় আজ রাতে আর গন্তব্যে ফেরা হবে না। কাল সকালের ভাড়ার ট্রিপটাও মিস হয়ে যাবে।’

    ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্মীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। কালুর দোকান এলাকার একটি স্টেশনের কর্মী মোহাম্মদ রানা জানান, সকালে এলপিজি কোম্পানির একটি গাড়ি এলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ছিল খুবই কম। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘দাম বাড়েনি, কিন্তু গ্যাসই নেই। আগামীকাল গ্যাস পাওয়া যাবে কি না, তা পুরোপুরি কোম্পানির গাড়ি আসার ওপর নির্ভর করছে।’

    এর আগে গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, দেশে বর্তমানে এলপিজির মোট চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫ হাজার টন এলপিজি ব্যবহৃত হয় অটোগ্যাস হিসেবে।

    সংগঠনটির নেতারা বলেন, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে অটোগ্যাস খাত মারাত্মক সংকটে পড়বে এবং এই শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। এ জন্য তাঁরা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

    অন্যদিকে চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ দুই মাসের পরিসংখ্যানে এলপিজি আমদানি বেড়েছে। সে তুলনায় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    তবে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বাজারে কৃত্রিম সংকটের ইঙ্গিত মিলছে। এতে সরকারি সংস্থাগুলোর ‘পর্যাপ্ত মজুত’ দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

    দ্রুত সংকট সমাধান না হলে পর্যটননির্ভর কক্সবাজারে পরিবহন ও জনজীবনে আরও বড় ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…