কাঠের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী ব্রিজ দিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ব্যবহার করছে এলাকাবাসী। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কাঠের তৈরি এই ব্রিজটি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের ওমরাবাজ গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবউল্লা মাঝি বাড়ী জামে মসজিদ সংলগ্ন বাসিরদোন খালের উপর নির্মিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটির দুই পাড়ে প্রায় ১৫০ পরিবারের বসবাস। গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই খাল পারাপারের জন্য ৫ বছর আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করে এই খালের ওপর একটি অস্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করেন। শুরুতে এটি তুলনামূলকভাবে চলাচলের উপযোগী থাকলেও সময়ের ব্যবধানে কাঠের ব্রিজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্রিজের মাঝখানে কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে, অনেক জায়গায় কাঠ ও বাঁশ ভেঙে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এই ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, নারী ও বৃদ্ধরা পারাপার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপদজনক।
এলাকাবাসীর দাবি, এই ব্রিজটি না থাকলে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, রোগী পরিবহন এবং দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। জরুরি সময়ে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে গিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানান অনেকেই।
স্থানীয় ফয়জুল্লাহ মাঝি বলেন, ‘এই খালটির ওপর প্রথমে একটি সাঁকো ছিল এবং যাতায়াত করতে কষ্ট হতো। পরবর্তীতে আমরা স্থানীয়রা মিলে ৫ বছর আগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করি। কোন অসুস্থ রোগিকে তাৎক্ষনিক আনা নেয়া করা যায়না। এমনকি কোন ধরনের যানবাহন চলতে পারে না। সরকারের কাছে একটি ব্রিজের দাবী করছি।’
ব্যাবসায়ী শাহিন বলেন, ‘আমি বাসিরদোন বাজারের একজন ব্যবসায়ী। প্রতিদিনই সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করতে হয়। কাঠের ব্রিজের ওপর দিয়ে সাইকেল চালাতে পারি না। এই খালটির ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা এটা আমাদের এখন প্রাণের দাবী। দীর্ঘদিন এই ব্রিজটি না হওয়াতে আমাদের যাতায়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।’
মসজিদের ইমাম মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি হাবিবউল্লা মাঝি বাড়ীর জামে মসজিদের একজন ইমাম। বাসিরদোন খালটির ওপর একটি সাঁকো ছিল। পরবর্তীতে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে স্থানীয়রা একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। এমনকি এই এলাকার অসুস্থ রোগিদের কাঁধে নিয়ে ব্রিজটি পার হয়ে তারপর গাড়িতে উঠাতে হয়। তবে এলাকা বাসির দাবী যাতে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ হয়।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি.এম ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধিনে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যর গ্রামিণ সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় চরফ্যাশন উপজেলায় পূর্বে কার্যক্রম চলমান ছিল, তবে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পরবর্তীতে চালু হলে এখানে ব্রিজ নির্মাণ করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
ইখা