ফরিদপুর–২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী ওরফে ধলা হুজুরের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি সংক্রান্ত একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কলরেকর্ডটি ভাইরাল হওয়ার পর পুরো নির্বাচনী এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা, বিএনপি সমর্থক ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার এবং একই এলাকার রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা শোয়াইব ইসলামের মধ্যকার কথোপকথন বলে দাবি করা হচ্ছে। মাওলানা শোয়াইব ইসলাম স্থানীয় মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীকে বনগ্রাম এলাকায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে ওই এলাকায় তার আগমন নিয়ে আপত্তি তোলেন রবি মেম্বার।
ভাইরাল হওয়া কলরেকর্ডে রবিউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘তোর ভোট দেওয়ার দরকার হইলে তুই হুজুরকে ভোট দে। কিন্তু হুজুরকে আনার দরকার নাই। তুই হুজুরকে আনলে আমার সমস্যা হয়।’ একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘তোর ধলা হুজুর কেন, ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না। গাড়ি দিলে জ্বালাইয়া দেব।’
এই কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ফরিদপুর–২ আসনের ভোটার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এমন বক্তব্যকে নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল ইসলাম ওরফে রবি মেম্বার বলেন, ‘কলরেকর্ডটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোর করে ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চেয়েছিলেন। ওই পরিবারটি এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই কর্মসূচি চান না, সেখানে জোর করে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। আমার বক্তব্য এআইয়ের মাধ্যমে সম্পাদনা করে ভিন্ন অর্থে উপস্থাপন করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। রবি মেম্বারের বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে আমাদের নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা প্রশাসনের কার্যকর ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
ভাইরাল কলরেকর্ডটির সত্যতা যাচাই এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
ইখা