এইমাত্র
  • পাকিস্তানের শপিংমলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ২৬, বহু নিখোঁজ
  • প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া দেখতে পেল মানুষ
  • ভিক্ষা করে কোটিপতি, বানিয়েছেন ৩টি বহুতল বাড়িসহ মারুতি সুজুকি গাড়ি
  • কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৭, আহত ২০
  • নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই: প্রধান উপদেষ্টা
  • নির্বাচন কমিশন বিএনপির চাপে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
  • সার্কুলার মডেল বাস্তবায়নে কে নেতৃত্ব দিবে? রাষ্ট্র, শিল্প নাকি নাগরিক সমাজ
  • তারেক রহমানের সাথে ইইউ রাষ্ট্রদূতগণের সাক্ষাৎ
  • আসিফ মাহমুদের দুর্নীতির বিচার দেশের মাটিতেই হবে: ছাত্রদল সম্পাদক
  • তিস্তা সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত
  • আজ সোমবার, ৬ মাঘ, ১৪৩২ | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    তিস্তা সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত

    মো. ফরহাদ হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
    মো. ফরহাদ হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

    তিস্তা সেচ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি প্লাবিত

    মো. ফরহাদ হোসাইন, নীলফামারী প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

    নীলফামারীতে তিস্তা সেচ ক্যানেলের দিনাজপুর ক্যানেলের একটি বাঁধ ভেঙে শতাধিক একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সরিষা, বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু ও বিভিন্ন রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়া এলাকায় দিনাজপুর ক্যানেলের ডান তীরের বাঁধে এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২০ ফুট অংশ ধসে পড়ে এবং সেচের পানি প্রবল স্রোতে পাশ্ববর্তী ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে।

    স্থানীয় কৃষক আব্দুর রহমান জানান, ‘চলতি বোরো মৌসুমে (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে ১৫ জানুয়ারি পানি সরবরাহ শুরু হয়। সেচের পানি পেয়ে ক্যানেলের দুই পাশের কৃষকরা বোরো আবাদে চারা রোপণ ও বিভিন্ন ফসলে সেচ দিচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে পড়ায় তাঁর জমিসহ আশপাশের অন্তত শতাধিক একর জমি পানিতে তলিয়ে যায়।’

    একই এলাকার কৃষক শরিফ ইসলাম, শফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, ‘এর আগেও ২০১৫ ও ২০২৪ সালে একই ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে তাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। এবারও একই ধরনের অব্যবস্থাপনার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।’

    ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী–পঞ্চপুকুর সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষুব্ধ কৃষকদের মুখে পড়েন।

    সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পুরোপুরি পানির নিচে। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেছে।’

    একই গ্রামের কৃষক রজব আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রতি বছর নামমাত্র সংস্কারের কারণে ক্যানেলের বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ছে, যার ফলেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।’

    নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বাঁধের ভেতরে ইঁদুরের গর্ত থাকার কারণে সেচের পানি ছাড়ার পর চাপ সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২০ ফুট অংশ ভেঙে পড়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ তবে দিনাজপুর ক্যানেলে সমস্যা হলেও রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।

    উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পের আওতায় চলতি খরিপ-১ (বোরো) মৌসুমে ১৫ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে মোট ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। 

    এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং দিনাজপুর জেলায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্র মতে, কমান্ড এলাকায় আগামী মে মাস পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস বোরো ও রবি মৌসুমে তিস্তার সেচ সুবিধা পাবেন কৃষকরা।

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…