এইমাত্র
  • আমির হামজার সব ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা
  • চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় র‍্যাব সদস্য নিহত
  • কলম্বিয়ায় মাদক আধিপত্যের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২৭
  • পাকিস্তানের শপিংমলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ২৬, বহু নিখোঁজ
  • প্রথমবারের মতো উদ্ভিদের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া দেখতে পেল মানুষ
  • ভিক্ষা করে কোটিপতি, বানিয়েছেন ৩টি বহুতল বাড়িসহ মারুতি সুজুকি গাড়ি
  • কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৭, আহত ২০
  • নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই: প্রধান উপদেষ্টা
  • নির্বাচন কমিশন বিএনপির চাপে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
  • সার্কুলার মডেল বাস্তবায়নে কে নেতৃত্ব দিবে? রাষ্ট্র, শিল্প নাকি নাগরিক সমাজ
  • আজ মঙ্গলবার, ৬ মাঘ, ১৪৩২ | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে রেখে যাওয়া শিশুর পরিচয় শনাক্ত

    মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
    মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

    ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে রেখে যাওয়া শিশুর পরিচয় শনাক্ত

    মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

    পাবনার ঈশ্বরদীতে চিরকুট লিখে অপরিচিত নারীর কোলে রেখে যাওয়া সেই শিশুর বাবা-মার খোঁজ মিলেছে অবশেষে। 

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশি সহায়তায় বিকেল ৫টার দিকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শিশুটিকে বাবা-মার হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    শিশুটির বাবার নাম মো. ইমারুল প্রামাণিক ও মা মোছা. মুক্তা খাতুন। তারা উপজেলার দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে স্বামীকে চিকিৎসা করাতে আসা ঈশ্বরদীর জয়নগর গ্রামের মোছা. মিষ্টি আক্তার নামে এক নারীর কোলে বাথরুমে যাওয়ার অজুহাতে শিশুটিকে রেখে যান মা মুক্তা খাতুন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। এদিকে শিশুর গায়ে জড়ানো কাপড়ে একটি চিরকুট দেখতে পান মিষ্টি আক্তার। সেখানে লেখা ছিল— "আপনি বাচ্চাটিকে হেফাজতে রাখবেন, বাচ্চার জন্ম ১লা জানুয়ারি"। চিরকুটে একটি মুঠোফোন নম্বরও দেওয়া ছিল।

    পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে মো. আশরাফ নামে এক ব্যক্তিকে পাওয়া যায়। তিনি সম্পর্কে ওই শিশুর বাবা ইমারুল প্রামাণিকের বড় ভাইয়ের জামাই। তবে তার নম্বরটি চিরকুটে কেন লেখা হয়েছে, তা তিনি বলতে পারেননি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে শিশুর বাবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে এসে শিশুটি তাঁর বলে দাবি করেন।

    পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রীকে ডেকে আনা হলে তিনি কখনও বলেন ‘এটি আমার শিশু নয়’, আবার কখনও বলেন ‘আমারই শিশু’, আবার কখনও ‘শিশু ছিনতাই হয়েছে’ বলে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। সর্বশেষ শিশুটি জন্মের সময় সঙ্গে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে থানায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ শিশুটিকে বাবা-মার কাছে হস্তান্তর করে।

    তবে শিশুটিকে কেন অন্যের কাছে দিয়ে এমন নাটকীয় ঘটনা ঘটালেন, সে বিষয়ে মা মুক্তা খাতুন কোনো সদুত্তর দেননি।

    শিশুর বড় চাচি মোছা. ডলি খাতুন বলেন, "শিশুটিকে সকালে মুক্তা খাতুন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সিসি ক্যামেরায় যে ওড়না পরিহিত নারীকে দেখা গেছে, সেটি পরে মুক্তাই হাসপাতালে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি কেন এমন কাজ করলেন, তা বুঝতে পারছি না।"

    বাবা ইমারুল প্রামাণিক বলেন, "আমি সকালে কাজে চলে গিয়েছিলাম। আমার স্ত্রী শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছে তা জানতাম না। হঠাৎ শুনি আমার স্ত্রী শিশু হারিয়ে ফেলেছে এবং কান্নাকাটি করছে। পরে লোকমুখে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখি এটি আমারই সন্তান।"

    ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বলেন, "শিশুটিকে নিয়ে এক নারী আমার শরণাপন্ন হলে আমি একটি চিরকুট দেখতে পাই। পরে পুলিশকে অবগত করে বাচ্চার বাবা-মার খোঁজ পাওয়া যায়। পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"

    ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "কি কারণে মা এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন তা তিনি স্বীকার করেননি। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়ায় শিশুটিকে তাঁর বাবা-মার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।"

    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    চলতি সপ্তাহে সর্বাধিক পঠিত

    Loading…