ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্বত্য বান্দরবানের জনবহুল ও সর্ববৃহৎ লামা উপজেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম সাংবাদিকদের জানান, "জেলায় ১৮৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে লামা উপজেলার ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১১টি কেন্দ্রকে 'অতি-ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই তালিকা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে।"
তিনি আরও জানান, আলীকদম উপজেলার কুরুপপাতা ইউনিয়নের কমচঙ ইয়ুংছা মাওরুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি উপজেলার মোট ১১টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রকে ‘হেলিস্টি’ (হেলিকপ্টার নির্ভর) কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও জনবল আনা-নেওয়ার কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।
ভোটার পরিসংখ্যান: বান্দরবান জেলায় (৩০০নং আসন) ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর বসবাস। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ জন।
লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. আব্দুল হামিদ জানান, এই উপজেলায় ৪২টি কেন্দ্রে মোট ২২৩টি ভোটকক্ষ রয়েছে। উপজেলায় মোট ভোটার ৮৭ হাজার ৫৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৪ হাজার ৯২৮ এবং নারী ৪২ হাজার ৬২৬ জন। এছাড়া ১২৭৫ জন সরকারি চাকরিজীবী পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন।
নিরাপত্তা ও অতীত সহিংসতা: লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়াতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সবকটি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। বিশেষ করে ১৪টি কেন্দ্রকে অতি-ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, লামায় নির্বাচনী সহিংসতার স্মৃতি এখনো অম্লান। বিশেষ করে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেরাখোলা স্কুলে গোলাগুলি, এম হোসেন পাড়া কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারসহ কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ রাখা এবং ফাঁসিয়াখালী ও সরই ইউনিয়নে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, "অতীতের সহিংসতার অভিজ্ঞতা থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা করা হয়েছে। তবে সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।"
এনআই