আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও শীতের তীব্রতায় গত বছরের তুলনায় এবার জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মিষ্টি আলুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। ফলন কম হওয়ায় কৃষকদের প্রত্যাশা ছিল ভালো দাম পাবেন। কিন্তু মৌসুমের শেষ ভাগে বাজারদরও নেমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এতে খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক চাষি।
সরিষাবাড়ী উপজেলা মিষ্টি আলুর জন্য পরিচিত একটি এলাকা। যদিও দেশে মিষ্টি আলু তুলনামূলকভাবে অবহেলিত ফসল, তবু প্রতিবছরই এখানে ব্যাপক আবাদ হয়ে থাকে। উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের বড়বাড়ীয়া, কৈজুরী, ধারাবর্ষা, জাফরাবাদ, কান্দারপাড়া, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে এবং ভাটারা ইউনিয়নের ভাটারা, মোহনগঞ্জ, কাশারীপাড়া, পাখাডুবী, ফুলবাড়িয়া, চর হরিপুরসহ কলারছড়া এলাকায় এবারও মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে।

সম্প্রতি কামরাবাদ ও ভাটারা ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সবুজ পাতায় ঢাকা মিষ্টি আলুর ক্ষেত। পুরুষেরা কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে আলু তুলছেন, আর নারী ও শিশুরা আলু কুড়িয়ে এক জায়গায় স্তুপ করছেন। কেউ কেউ মাঠেই আলু মেপে বস্তাবন্দি করছেন। আবার আলুর লতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকেরা।
তরুণ কৃষক কবীর হোসেন বলেন, ‘অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে চারা রোপণ শুরু হয়। ফাল্গুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আলু পরিপক্ব হয়ে ওঠে। তবে এবার ঠান্ডা বেশি থাকায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে।’
ধারাবর্ষা গ্রামের চাষি ইয়াজ উদ্দিন, করম আলী, মোস্তফা ও আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে বিঘাপ্রতি ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। কিন্তু এবার ফলনও কম, দামও কম। গত বছর প্রতি মণ আলু ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছি। এবার মৌসুম শেষে ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

স্থানীয় পাইকার মতিউর রহমান জানান, মিষ্টি আলুর চাহিদা ঢাকায় বেশি। তাই এখান থেকে কিনে ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ ১২০০-১৫০০ টাকায় কেনা হয়েছে। ঢাকায় ১৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে শেষ দিকে দাম অনেক কমে গেছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, ‘আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। এ বছর মিষ্টি আলুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬০ হেক্টর, তবে আবাদ হয়েছে আরও বেশি। বাজারদর কমার কারণ বলা কঠিন। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। আলু তোলা শেষ করেই কৃষকেরা এখন বোরো চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
ইখা