গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ঝিনাইদহ–৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের বিরুদ্ধে চাকরির প্রলোভনসহ বিভিন্নভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের একটি মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ব্যাংকার রাসেল আহমেদ, তাঁর বাবা তাজউদ্দিন আহমেদ, গণ অধিকার পরিষদের নেত্রী জহুরা বেগম এবং রাসেল আহমেদের স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে রাসেল আহমেদ রাশেদ খানকে অর্থ দেওয়ার বিভিন্ন প্রমাণাদি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
রাসেল আহমেদ বলেন, রাশেদ খান বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, রাশেদ খান নিজেকে অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে সহযোগিতা চাইতেন এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে সবাই উপকৃত হবেন—এমন কথা বলে বড় অঙ্কের টাকা নেন।
রাসেল আহমেদের ভাষ্য, দলের কর্মসূচি পরিচালনা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা বলে রাশেদ খান তাঁর কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একটি আইফোন কেনার জন্যও রাশেদ খান তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া ল্যাপটপ, ঘরের আসবাবপত্রসহ নানা জিনিস কেনার জন্যও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাসেল আহমেদ আরও দাবি করেন, রাশেদ খান একটি গাড়ির ১৬টি কিস্তির টাকাও তাঁর কাছ থেকে নিয়েছেন। এসব অর্থ জোগাতে গিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। টাকা ফেরত চাইলে রাশেদ খান বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাসেল আহমেদের দাবি, দেড় বছরে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩২ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন রাশেদ খান।
সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিনাইদহ শাখায় পিওন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাশেদ খান তাঁর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু চাকরি কিংবা টাকা—কোনোটিই ফেরত পাননি বলে জানান তিনি।
নারী অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরা বেগম বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলে রাশেদ খান তাঁর কাছ থেকেও ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি কাউকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন।
ইখা