হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে জনপ্রতিনিধির যাত্রা শুরু করেছিলেন জি কে গউছ। ২০০৪ সালে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। টানা তিনবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর এবার ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৯৬ হাজার ৭৪৯ ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
পৌর ভবন থেকে সংসদ ভবন—এই দীর্ঘ পথচলা শুধু রাজনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়, এটি সংগ্রাম, ত্যাগ, সাহস ও জনআস্থার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। নানা চক্রান্ত, কারাবরণ এবং প্রাণনাশের চেষ্টাও পেরিয়ে আজ তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য।
বিজয়ের এই মুহূর্তে হবিগঞ্জ শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদে থেকেও তিনি হবিগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আগের মতোই সোচ্চার থাকবেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, জি কে গউছ একজন ক্যারিশমেটিক নেতা। অনেক ষড়যন্ত্র ও বাধা এলেও জনগণ থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। কেউ কেউ বলেন, মানুষের কাছে টানার এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তাঁর মধ্যে। তিনি হাঁটলে মিছিল হয়, বসলে তা সভায় পরিণত হয়।
পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নিজেকে জনমানুষের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, শহরের মানুষের হৃদয়ে তার আলাদা জায়গা রয়েছে। এবার সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে জাতীয় রাজনীতিতেও।
দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত জি কে গউছ। হবিগঞ্জ সরকারি বৃন্দাবন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথ সরব রাখার ইতিহাস তার দীর্ঘ। তবে রাজনৈতিক জীবন কখনোই মসৃণ ছিল না। প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে বহু মামলার আসামি হতে হয়েছে এবং ১৫১৭ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। এমনকি কারাগারে তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে নানা ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও তিনি থেমে যাননি।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সূত্র ধরে রাজনীতির পাশাপাশি হবিগঞ্জের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেন তিনি।
একসময় ‘পায়জামা শহর’ হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ পৌরসভাকে আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের কৃতিত্বও তার। রাস্তাঘাট উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে তিনি নিজেকে উন্নয়নবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
সব সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দুইবার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গোল্ড মেডেল অর্জন করেছেন।
ইখা