নীলফামারীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হলো না ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের (৪৫)। অবশেষে তাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হেদায়েত আলী শাহ ফকির ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হেদায়েত আলীর বিরুদ্ধে আলোচিত ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যা মামলা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যাকাণ্ডে হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য মানুষ আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাবাস ও নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সেদিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর হেদায়েত আলীসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, “হেদায়েত আলী হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।”
প্রসঙ্গত, গত ২০ জানুয়ারি নীলফামারী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন হেদায়েত আলী শাহ ফকির।
এনআই