চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতটি কিরিচসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আসামিদের ধরতে গিয়ে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার জুলধা ডাঙারচরের দিঘির পাড় আবুলের দোকান সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—উপজেলার চরলক্ষ্যা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী বাপের বাড়ির মৃত মো. ইসমাইলের ছেলে আলী আজম (২৭) এবং চরলক্ষ্যা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনু বাপের বাড়ির মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো. ফারুক (৩৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ডাঙারচর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বিওসি ঘাট যাত্রী ছাউনি এলাকায় মো. এরশাদের (৩৫) নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী সাম্পান মাঝি জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগী মো. মুছার ওপর হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সাম্পানের মালিক মো. শহীদ নূর বাদী হয়ে এরশাদকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে পূর্বশত্রুতার কথা উল্লেখ থাকলেও বাদীর দাবি, চাঁদা দাবির জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার রাতে মামলার আসামিদের ধরতে ডাঙারচর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নজিবুল্লাহ তানভীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে গেলে প্রধান আসামি এরশাদ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। এতে এসআই এ কে এম নজিবুল্লাহ হক তানভীর পা ও পিঠে আঘাত পান। পরে পুলিশ ধাওয়া করে আলী আজম ও ফারুককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি লম্বা দেশীয় কিরিচ উদ্ধার করা হয়।
কর্ণফুলী থানার অপারেশন অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, “দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৭টি কিরিচ উদ্ধার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।”
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিদের ধরতে গিয়ে এসআই তানভীর আঘাত পেয়েছেন। অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
এনআই