মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় অবাধে কাটা হচ্ছে তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বর মাটি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অন্তত ৫৮টি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে এসব মাটি। এতে আবাদি জমি গভীর গর্ত ও ডোবায় পরিণত হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য উৎপাদন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক।
স্থানীয়দের জানান, জরিমানা ও অভিযান চললেও কেন বন্ধ হচ্ছে না উর্বর কৃষিজমির মাটি কাটা। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে বলধারায় ২৭টি, চান্দহরে ১৩টি, জার্মিত্তায় ৬টি, বায়রায় ৬টি, চারিগ্রামে ৩টি, ধল্লায় ২টি এবং সদর ইউনিয়নে ১টি ইটভাটা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। বন্ধ থাকা কয়েকটি ভাটাও নতুন নামে বা ভাড়ায় চালু রয়েছে।
সরেজমিনে বলধারা ইউনিয়নে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি থেকে মাটি কাটায় তা গভীর খাদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের আঁধারে টপসয়েল কাটা হচ্ছে। এতে পাশের জমি ভেঙে পড়ছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
জার্মিত্তা ও চান্দহর ইউনিয়নেও একাধিক ভাটার জন্য স্থানীয় কৃষিজমি থেকে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ট্রাকে মাটি পরিবহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইলিয়াস খান বলেন, অধিকাংশ ভাটা ভাড়ায় পরিচালিত হয় এবং অন্তত চারটি ভাটা অবৈধ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল বাশার চৌধুরী জানান, এ উপজেলায় কোনো ইটভাটাই বিধিসম্মত নয় এবং কৃষি বিভাগের মতামত নেওয়া হয় না।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে টপসয়েল কাটার অভিযোগে সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩টি ভেকু অকার্যকর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এসআর