ঘরে, কী বাইরে চারদিকে এত কথা, এত শব্দ, এত কোলাহল। সবখানে হইচই আর শুধু হট্টগোল। বাসে, ট্রেনে, স্কুলে, রেস্তোরাঁয়, অফিসে, আড্ডায়, খেলার মাঠে, বাজার-হাটে ও সড়কপথ কোথাও নেই এতটুকু নীরবতা। চলার পথে বেশি ভোগান্তি হয় হর্নে, যেন মস্তিষ্ক ছিঁড়ে যাচ্ছে। অথচ শরীর ও মন উভয়ের জন্য নির্জনতা-নৈঃশব্দ্য যে কত জরুরি, তা তো আমরা সবাই জানি। আর যারা শব্দের শহর ঢাকাতে থাকেন, তারা তো রীতিমতো কামনা করেন সেইসব দিনরাত্রি, যেখানে মিলবে একটু শব্দহীন প্রশান্তি। থাকবে না জঞ্জাল, কোনো কোলাহল।
শব্দগুলোই মাঝেমধ্যে বাড়ায় বিড়ম্বনা। তৈরি হয় বিরক্তি। জাগে ক্লান্তি। তবে ব্যস্ততার জীবনে শব্দহীনতার ফুসরত কোথায়? কোথায় সুনসান নীরবতা। হাজার রকম শব্দেই তো ঢেউ তুলে মানুষের জীবন বয়ে যায়। কখনো কখনো শব্দ ছাড়া মানুষের জীবন অচল, কখনো আবার শব্দই মানুষকে অতিষ্ট করে তোলে।
তাই তো খানিকটা সময় নৈঃশব্দ্যে কাটানোর একটি উপলক্ষ বের করা হয়েছে। বের করা হয়েছে নিঃশব্দে থাকার ফুসরতও।
আচ্ছা অন্তত একটা দিন এমন হতে পারে না, যে দিনটা হবে একেবারেই নিঃশব্দ! বছরজুড়ে তো কম কথা হয় না। একটা দিন হোক নির্বাক, নিশ্চুপ। চারপাশের বাকি সব শব্দদূষণ হয়তো থামাতে পারবেন না, কিন্তু কথার দূষণ তো থামানো যেতেই পারে।
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। যা উদযাপন করা হয় ‘নৈঃশব্দ্য দিবস’ বা ‘কোয়ায়েট ডে’ হিসেবে। কথা, চিৎকার, কোলাহল, গোলমাল, গ্যাঞ্জাম থেকে খানিক বিরতি নিয়ে নৈঃশব্দ্যের শব্দ উপভোগের দিন।
তাই মানবসৃষ্ট নানা শব্দে যারা অতিষ্ট তারা চলে যেতে পারেন শব্দহীন কোনো নির্জন জায়গায়। নিঃশব্দে বের করে আনতে পারেন নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা নিজেকে। কিংবা নিঃশব্দে প্রিয় কারো সানিধ্য উপভোগ করলেও ক্ষতি নেই। নীরবতারও তো শব্দ আছে, আছে আলাদা ভাষা। তাই চাইলে শব্দ না করেও বলা যায় অনেক কিছু, শোনাও যায় অনেক।
এইচএ