ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো সম্ভাব্য স্থল অভিযানের মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-এর সঞ্চালক টম লামাসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্ভাব্য স্থল আক্রমণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আরাগচি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা তাদের রুখে দিতে পারব এবং এটি তাদের জন্য একটি বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে।
আরাগচি বলেনে, বর্তমানে দেশজুড়ে হামলা চললেও ইরান কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়নি। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, সে সময় ইরান নয় বরং ইসরাইল নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি চেয়েছিল। এছাড়া, মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৭১ জন শিশুর মৃত্যুর জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন। মার্কিন সেনাবাহিনী এই ঘটনাটি তদন্তের কথা বললেও আরাগচি একে দখলদার বাহিনীর পরিকল্পিত কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও নিশ্চিত করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। গত সপ্তাহে জেনেভায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাঝপথেই এই আক্রমণ শুরু হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার কোনো ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তাদের নেই এবং যারা সরল বিশ্বাসে আলোচনায় বসে না, তাদের সঙ্গে পুনরায় বসার কোনো কারণ ইরান দেখছে না। তার মতে, এই যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না, তবে অবৈধ লক্ষ্যমাত্রার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ইরানের বিজয়।
সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ক্ষমতার শূন্যতা এবং উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে চলমান গুঞ্জন প্রসঙ্গেও আরাগচি কথা বলেন। মোজতবা খামেনির নাম আসার বিষয়ে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ দেশের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং 'অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস' বা বিশেষজ্ঞ পরিষদই পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে। পরবর্তী সুপ্রিম লিডার নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতার খবরকে নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে বাইরের কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
এমআর-২