চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মহিলা জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারে বাধা, গালিগালাজ এবং পরবর্তীতে জামায়াত নেতাকর্মীদের দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মো. শাকিল নামের এক বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সাধনপুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাধনপুরে সংঘটিত সহিংস ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন শাকিল।
সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও এলাকায় মহিলা জামায়াতের একটি দল নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় কোনো উসকানি ছাড়াই একদল ব্যক্তি তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে।
ওই ঘটনার জেরে একই দিন সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা মিজান মোল্লার নেতৃত্বে ৩০–৪০ জনের একটি দল বাণীগ্রাম নতুন বাজার ও বাণীগ্রাম–সাধনপুর উচ্চবিদ্যালয় গেট এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মীদের একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
ভাঙচুরের শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউনিয়ন জামায়াতের ইউনিট সেক্রেটারি মো. মনছুরের ‘কুলিং কর্নার’ ও চায়ের দোকান, ওয়ার্ড জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইসমাইলের স্যানিটারি দোকান ও বসতঘর এবং জামায়াত কর্মী বাদশার পানের দোকান। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ লুট করে নেয়। আতঙ্ক ছড়াতে তারা ফাঁকা গুলিও ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ঘটনার পর থেকেই সেনাবাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে। এর আগে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে হামলার মূল অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মিজান মোল্লার বাড়ি থেকে একটি রামদা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করে। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে হামলায় অংশ নেওয়া শাকিলকে আটক করা হয়।
বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, “বিনা উসকানিতে আমাদের মহিলা কর্মীদের অবরুদ্ধ করা এবং পরবর্তীতে নেতাকর্মীদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে রামদাস হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাগচি বলেন, ফাঁকা গুলি ছোড়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মিজান মোল্লার বাড়ি থেকে রামদা ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের বিষয়টি সত্য। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও নাশকতা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ইখা