আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহন নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছেই না। সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও এখনো চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। এর মধ্যেই বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত করায় বিয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচনের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়েও সেই অনুষ্ঠান হয়নি।
পরে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জানায়, জার্সি উন্মোচন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার সঙ্গেই যুক্ত করে দেখছেন অনেকেই।
এর আগে আইসিসির নিয়ম মেনে পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল। সে সময় ধারণা করা হয়েছিল, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার দিকেই এগোচ্ছে দেশটি। কিন্তু জার্সি উন্মোচন স্থগিত হওয়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান আদৌ বিশ্বকাপে খেলবে কি না।
পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, পাকিস্তান বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত, এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলে তা আগেই জানানো হতো। যেহেতু সিদ্ধান্ত সোমবার পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাই বিশ্বকাপ বয়কটের দিকেই এগোচ্ছে পাকিস্তান, এমন ইঙ্গিত মিলছে।
এর আগে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে আপত্তি জনায় বাংলাদেশ। পরে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি।
এ ঘটনার পর গুঞ্জন উঠেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করার চিন্তা করছে পাকিস্তান। স্বয়ং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি নিজেও আভাস দিয়েছিলেন এমন কিছুর।
তিনি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে সরকার। এ নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকও করেন পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে নাকভি জানিয়েছিলেন, শুক্রবার (গতকাল) ও আগামী পরশু (সোমবার) বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে পাকিস্তান। গতকাল অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি তারা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় নেই। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়, তাহলে আইসিসির সামনে আর নতুন কোনো বদলি দল নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ফলে টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়েও নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
আরডি