কুমিল্লার হোমনায় এসিল্যান্ডের গাড়ির চাপায় দুই বছরের এক শিশু ফাইজা নিহত হওয়ার এক মাস পর মেয়ের বিচার চেয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছে ফাইজার আক্তারের মা সাদিয়া ইসলাম রিতু।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) রাত বারোটার দিকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া পোস্ট শেয়ার দিয়ে ফেসবুকে ঘাতক গাড়ি চালকের বিচার দাবিও চেয়েছিলাম অনেকেই।
পোস্টে নিহত ফাইজার মা সাদিয়া ইসলাম রিতু লিখেছেন, ৬ মাসের ফুল নিয়ে আসছিলাম হোমনায়, আজকে খালি হাতে হোমনা ছেড়ে যেতে হলো। বিদায় হোমনা, প্রথম যেদিন হোমনা পা রেখেছিলাম এইতো সেদিন এখনো মনে পরে গৌরীপুর থেকে হোমনা আসার সময় পথ যেনো শেষই হচ্ছিলো না। বাতাকান্দি, তিতাস, ছিনাইয়া এছাড়াও যে কয়টি মার্কেট সামনে পড়ছে ভাবছি এই বুঝি হোমনা আসলাম। যাই হোক অবশেষে যখন সিএনজি হোমনা পৌছালো হোমনা স্বাস্থ্যে কমপ্লেক্স এর সামনে বাগানের মধ্যে। সারা পথ হোমনা কোথায় হোমনা কোথায় জিকির করলেও যাওয়ার পরে তখন কেমন একটা অস্বস্তি ফিল হচ্ছিলো।
তিনি লেখেন, আমার পাখি আমার কোলে করে প্রথম হোমনায় নামছিল সেদিন। যেখানে সোনা মা নেমেছিল ঠিক সেখান থেকেই আমার সোনা মাকে এম্বুলেন্স এ তুলে দিয়েছিলো সবাই। এই জন্যই হয়তো ঐদিন আমার ওরকম অস্বস্তি ফিল হচ্ছিলো। ঐ দিন যদি বুঝতে পারতাম আমি আমার পাখি কে বুকে নিয়ে ঐ গাড়িতেই ফেরত চলে আসতাম। থাকতাম না ঐ হোমনায়।
হোমনা আজ আমি তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি। আমি শুধু একটা জায়গা না, আমি আমার বুকের রক্তমাখা স্মৃতিগুলো পেছনে ফেলে যাচ্ছি। এই হোমনাতেই আমার মেয়েটা প্রথম হাঁটতে শিখেছিল, প্রথম মা বলে ডেকেছিল, আর শেষবারের মতো আমার হাত ছেড়ে দিয়েছিল। এই রাস্তাগুলো জানে আমি কীভাবে চিৎকার করেছিলাম, কীভাবে আমার বুক ফেটে গিয়েছিল। কীভাবে একটা মা নিজের চোখের সামনে নিজের পৃথিবীটাকে হারিয়ে ফেলেছিল।
তিনি আরো লেখেন, সর্বশেষ হোমনার মানুষের উদ্দেশ্য কিছু কথা বলতে চাই, খুনি তাইবুর এর সাথে আমাদের কোনো ধরণের কোনো যোগাযোগ হয় নাই। তাঁর কাছে আমরা আমার মেয়ের রক্ত বিক্রি করি নাই। তাঁকে কোনো শাস্তি আমি দিতে পারি নাই, ঠিকই কিন্তু আরশে আজিমের উপরে জিনি আছেন তাঁর কাছে আমি বিচার দিয়েছি। দুই দিনের দুনিয়ায় আল্লাহ বিচার না করলেও ইনশাআল্লাহ হাশরের ময়দানে পালানোর পথ পাবে না। সেই বিচারে হোমনার মানুষ পৃথিবীতে যারা চোখে দেখেও সাক্ষী দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে দিন আপনারাও উপস্থিত থাকবেন আশা করি। সেই দিন ও কি আপনারা ভয় পাবেন সত্যি কথা বলতে হ্যাঁ যদিও আমি পোস্টমর্টেম এর জন্য কখনোই মামলা করতে পারতাম না টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউট স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা, অভিভাবক গণ আপনারা আমাদের ভুলে গেলেও আমরা কখনোই আপনাদের ভুলতে পারবো না। আপনারা আমাদের ফ্যামিলির রক্তে মিশে গেছেন। আশা করি পরকালের বিচারের দিন আপনারাও উপস্থিত থাকবেন। আপনাদের উপস্থিতি একান্ত কাম্য। আয়ানের জন্য দোয়া কইরেন। তবে এই যাওয়া শেষ যাওয়া না। ইনশাআল্লাহ আবার হোমনায় ফিরে আসবো। হোমনার মানুষকে ফাইজার কথা মনে করিয়ে দিতে। ইনশাআল্লাহ সর্বশেষ একটা কথাই বলবো বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম। আল্লাহ উত্তম ন্যায় বিচারক।
উল্লেখ্য যে, নিহত ফাইজার ভাই আরিয়ান টিউলিপ প্রশাসন ইনস্টিটিউশনে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। সকালে মায়ের সঙ্গে ওই এলাকায় আসে ফাইজা। ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িটি দ্রুতগতিতে এসে শিশু ফাইজাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন গাড়িটি আটক করেন। তবে গাড়িচালক পালিয়ে যান। পরে লোকজন বিচারের দাবিতে মিছিল করেন। নিহত ফাইজা আক্তারের বাবার নাম ফাইজুল হক, তিনি একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে হোমনায় থাকতে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার তেরদ্রন গ্রামে।
এসআর