ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশে পা রাখলেই এখন এক অন্যরকম প্রশান্তি আর আভিজাত্যের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে। যাত্রী ও চালকদের নজর কাড়ছে দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নবনির্মিত ও নান্দনিকভাবে সাজানো ফুট ওভারব্রিজটি। ব্রিজের উপরিভাগে বিশাল অক্ষরে লেখা ‘আমাদের ত্রিশাল’ স্লোগানটি এখন এই অঞ্চলের নতুন পরিচয় এবং গৌরবের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
একসময় যে ওভারব্রিজটি ছিল পোস্টার, ব্যানার আর ময়লা-আবর্জনার দখলে, আজ সেটিই ত্রিশালের প্রধান ল্যান্ডমার্ক। বর্তমান উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আমূল বদলে গেছে এর চিত্র। জীর্ণ দশা কাটিয়ে ওভারব্রিজটি এখন শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, বরং সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের কাছে এক অন্যতম আকর্ষণ। উজ্জ্বল রঙে সজ্জিত ব্রিজের গায়ে লেখা ‘আমাদের ত্রিশাল’ যেন প্রতিটি নাগরিকের হৃদস্পন্দন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ত্রিশাল কেবল একটি উপজেলা নয়, এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের গেটওয়ে। নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের মানুষ এই পথেই যাতায়াত করেন। দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনের যাত্রীরা যখন ত্রিশাল অতিক্রম করেন তখন এই দৃষ্টিনন্দন ব্রিজটি তাদের স্বাগত জানায়।
স্থানীয়রা বলছেন, "আমাদের ত্রিশাল" লেখাটি দেখার পর নিজেদের মধ্যে এক গভীর মমত্ববোধ তৈরি হয়। এটি যেন বাইরের জেলা থেকে আসা মানুষের কাছে এই জনপদের একটি পরিচ্ছন্ন ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে উপজেলা প্রশাসনের দূরদর্শী পরিকল্পনা।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, "কাজটা ক্ষুদ্র হলেও স্বপ্নটা ছিল অনেক বড়। ত্রিশালে যোগদানের পরপরই আমার নজরে আসে জীর্ণ আর অবহেলিত এই ফুট ওভারব্রিজটি। এটি তখন আবর্জনা, পোস্টার আর অবৈধ দখলে সয়লাব ছিল। প্রথমেই উচ্ছেদ অভিযান এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করি। এরপর চলে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। এখন এই সুন্দরকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের।"
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এখন সাধারণ মানুষ যদি যত্রতত্র পোস্টার না লাগিয়ে এর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখে, তবেই এই সৌন্দর্য স্থায়ী হবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি বিজড়িত আর ঐতিহ্যের এই জনপদ এখন থেকে এই নতুন পরিচয় নিয়েই দেশবাসীর সামনে পরিচিত লাভ করবে।
ইখা