ভেনেজুয়েলায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে এই অভিযান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে বলে ঘোষণা দেন।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসকে বহনকারী হেলিকপ্টার নিউইয়র্কের একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট মামলায় আগামী সপ্তাহে তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র শুধু এবারই একটি দেশের প্রধানকে সামরিক হস্তক্ষেপ করে আটক করেনি। তাদের ইতিহাসে রয়েছে আরো একাধিক ঘটনা।
ম্যানুয়েল নোরিয়েগা: তাদের মধ্যে একজন হলেন পানামার ম্যানুয়েল নোরিয়েগা। ১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র পানামায় হামলা চালায় এবং দেশটির সামরিক শাসক ও কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল নোরিয়েগা মাদক পাচার, দুর্নীতি ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনে জড়িত। এর আগেই ১৯৮৮ সালে মিয়ামিতে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের মামলা করে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর নোরিয়েগাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। এরপর পরে ফ্রান্স হয়ে আবার পানামায় ফেরত পাঠানো হয়। ২০১৭ সালে পানামার কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
সাদ্দাম হুসেইন: ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) থাকার মিথ্যা অভিযোগে ইরাকে আগ্রাসন চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। আগ্রাসনের নয় মাস পর, ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে, মার্কিন বাহিনী সাবেক ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে তার নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্ত থেকে আটক করে। পরবর্তীতে ইরাকি আদালতে বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ: ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, ক্ষমতা ছাড়ার কয়েকদিন পরই, যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট ও হন্ডুরাসের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করে মাদক পাচার ও দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দিলে তিনি মুক্তি পান। মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই হন্ডুরাসের প্রধান কৌঁসুলি তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এইচএ