এইমাত্র
  • ৭ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু
  • নাইজেরিয়া গ্রামে ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ৩০
  • শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
  • দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান, সফরসূচিতে রংপুর-সিলেট
  • ভোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
  • দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
  • ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির ঢল
  • নতুন বছরের শুরুতেই বাড়ল স্বর্ণের দাম
  • নাইজেরিয়ায় বাজারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ৩০
  • কুয়েত থেকে ৪০ হাজার প্রবাসী বিতাড়িত
  • আজ সোমবার, ২২ পৌষ, ১৪৩২ | ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    ভাঙ্গুড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঘোড়ার গাড়ি

    সাখাওয়াত হোসেন, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
    সাখাওয়াত হোসেন, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

    ভাঙ্গুড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঘোড়ার গাড়ি

    সাখাওয়াত হোসেন, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

    পাবনার ভাঙ্গুড়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এক সময় গ্রাম-বাংলার পথে প্রান্তরে ছুটে চলা ঘোড়ার গাড়ি। যান্ত্রিক বাহনের দৌরাত্ম্যে উপজেলার অধিকাংশ রাস্তাঘাটে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে ঘোড়ার গাড়ির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফসল ঘরে তোলা থেকে বাজারে নেওয়া-সবই করা হচ্ছে এই গাড়িতে। অন্যদিকে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতাও এসেছে বহু পরিবারে।

    স্থানীয়রা জানান, এক সময় গ্রামবাংলার মানুষের নির্ভরযোগ্য বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি। কৃষিজমির কাদাপানি থেকে যান্ত্রিক কোনো বাহনে কৃষিপণ্য বহন করে আনা যায় না। আনলেও পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। ফলে আগে কৃষকরা মাথায় কিংবা কাঁধে করে মাঠ থেকে ফসল আনতেন। ঘোড়ার শক্তি বেশি থাকায় এখন অনায়াসে ঐসব স্থান থেকে ঘোড়ার গাড়িতে উৎপাদিত ফসল বহন করতে পারছেন কৃষকরা। ফলে এলাকার কৃষকদের কাছে এ বাহনগুলোর চাহিদা তৈরি হয়েছে। ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাঁচ বেতুয়ান, পাটুল, মাগুরা, নৌবাড়ীয়া, গোবিন্দপুর দিলপাশার, কৈডাঙ্গা, শরৎনগরসহ আশপাশের প্রায় ৪০ থেকে ৫০জন এই গাড়ি ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

    ঘোড়ার গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা সাধারণত অল্প টাকায় কেনা মাইক্রোবাসের পুরোনো চাকা দিয়ে ঘোড়ার গাড়ি তৈরি করে থাকেন। প্রতিটি গাড়ি তৈরি করতে খরচ পড়ে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। আর ঘোড়া কিনতে লাগে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। গাড়ি চালিয়ে দিনে আয় হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। তা দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণসহ ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ বহন করছেন তারা। যেখানে অন্য কোনো গাড়ি সাধারণত চলাচল করতে পারে না সেখানেই তারা মালামাল বহন করে থাকেন। বর্তমানে উপজেলার অনেকেই পেশা পরিবর্তন করে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

    ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাঁচ বেতুয়ান গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের জমির ফসল আর বাড়ির লোকজনের যাতায়াতের জন্য প্রায় সারাদিন গাড়ি লাগে। কখনও কাজ না থাকলে ভাড়ার বিনিময়ে গাড়ি চালাই। তখন বাজারে মালপত্র বা মানুষ পৌঁছে দিই। এতে ভালোই রোজগার হয়।’ গত চার বছর আগে ২৫ হাজার টাকায় ঘোড়াসহ একটি ঘোড়ার গাড়ি কিনেন তিনি এবং ভাড়ায় কৃষিপণ্য বহন করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। ঘোড়ার খাবার ছাড়া বাড়তি কোনো খরচ না থাকায় অনেকেই এখন এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

    এ ব্যাপারে চলনবিল সাহিত্য সংসদের সভাপতি কবি নুরুজ্জামান সবুজ সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামীণ জীবনের বহু ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে। একসময় গ্রামবাংলার পথে-প্রান্তরে ছুটে চলা ঘোড়ার গাড়ি-যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল।

    অন্যদিকে ঘোড়ার গাড়ি আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য। প্রয়োজনের তাগিদেই পুনরায় এখন হারিয়ে যাওয়া সেই ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন আবার শুরু হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে কৃষকরা তাদের মালামাল পরিবহন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় অনেকের জন্য এটা জীবিকার উৎস হিসেবে যুক্ত হয়েছে। বর্তমান যান্ত্রিক যুগে এ ধরনের যানবাহনের খুব বেশি প্রচলন না থাকলেও পরিবেশ ও শব্দদূষণ রোধে ঘোড়ার গাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…