আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তার দাখিলকৃত হলফনামায় সম্পদের পাশাপাশি বিশাল অঙ্কের ঋণের তথ্য দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও এই প্রার্থীর ঘাড়ে রয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকার ঋণের বোঝা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক মোট আয় ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, যার সিংহভাগ আসে কৃষি ও ব্যবসা খাত থেকে। তবে আয়ের তুলনায় তার স্থাবর সম্পদের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে তার নিজ নামে ৫৮০.৪৪ শতাংশ কৃষি জমি এবং ২৭.৬৩ শতাংশ জমির ওপর বহুতল ভবন রয়েছে। সব মিলিয়ে তিনি তার স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ করেছেন ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়াও তার স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের নামে আরও ৮৫০ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে।
অস্থাবর সম্পদের বর্ণনায় প্রার্থী জানিয়েছেন, তার কাছে নগদ ৭ লাখ ৮০ হাজার ৮৫৭ টাকা এবং শেয়ার বাজারে ৮ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। শৌখিনতার অনুষঙ্গ হিসেবে তার একটি ২২ বোর রাইফেল (আগ্নেয়াস্ত্র) রয়েছে, যার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়াও তার সংগ্রহে উপহার হিসেবে পাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র রয়েছে।
বিপুল এই সম্পদের বিপরীতে হলফনামায় বিশাল অংকের দায়ের চিত্রও উঠে এসেছে। খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নিজ নামে ঢাকা ব্যাংকে ৭ কোটি ৫৫ লাখ ২৭ হাজার ১২৮ টাকা এবং তার স্ত্রীর নামে ইউসিবিআই ব্যাংকে ১০ কোটি ৭৭ লাখ ৫১ হাজার ৮৫ টাকা ঋণ রয়েছে। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই দম্পতি ১৮ কোটি টাকারও বেশি ঋণের দায়ে আবদ্ধ।
আইনি জটিলতার বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরআগে তার বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলা থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে অব্যাহতি বা নিষ্পত্তি পেয়েছেন।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বর্তমানে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরআগে তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বড় অংকের সম্পদ ও ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ফরিদপুর-১ আসনে ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল, যা ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি; ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।
ইখা