প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নান্দনিক স্থাপত্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এটি কেবল একটি শিক্ষাঙ্গনই নয়, দেশের কৃষি গবেষণার অন্যতম অগ্রদূত। কৃষি খাতকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বাকৃবির গবেষকরা বছরের পর বছর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন জাতের বীজ উদ্ভাবন, উন্নত সংকর জাত, কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন জীবাণুর জীবনরহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে তারা দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এ বছরের বাকৃবির কৃষি গবেষণার সাফল্য নিচে বর্ণনা করা হলো।
ন্যানো বায়োচারসমৃদ্ধ ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন
বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আহমদ খায়রুল হাসান ন্যানো বায়োচার সমৃদ্ধ ন্যানো ইউরিয়া সার উদ্ভাবন করেছেন। এই সারের কণা অতি ক্ষুদ্র হওয়ায় সহজে বৃক্ষ শোষণ করতে পারে। ফলে প্রচলিত ইউরিয়া সারের অপচয় কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কম হয়। এছাড়া গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কম হয়। এটি গাছের নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা ৭৫-৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে। অ্যামোনিয়া অপচয় ৮০-৯০ শতাংশ কম হয়, নাইট্রেট লিচিং ৬৫-৭৫ শতাংশ কম এবং নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড নির্গমন ৪০-৫০ শতাংশ কম করে। ফলে মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ধানের ফলন ১০-২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে। প্রচলিত ইউরিয়া গাছ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ নাইট্রোজেন ব্যবহার করতে পারে। বাকি ৬০ শতাংশ নাইট্রোজেন ভোলাটিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় নষ্ট হয়ে যায়।
চা ও পানীয় বিকল্প পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রোজেল
পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রোজেল ফুলের লালচে রঙের বৃতির প্রতি গ্রাম শুকনো অংশে রয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৬০ থেকে ১ দশমিক ৮৬ গ্রাম অ্যান্থোসায়ানিন (অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট)। এ ছাড়া এতে রয়েছে ফ্ল্যাভনয়েড, ক্যারোটিন, প্রোটিন, চর্বি, ফাইবার ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। রোজেল বৃতির প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৪ গ্রাম অর্গানিক এসিড পাওয়া যায়। এগুলো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, জ্বর প্রতিরোধসহ বিভিন্ন অসুস্থতার উপশমে কার্যকর। এ ছাড়া পরিপক্ব বীজেও প্রায় ২০ শতাংশ আমিষ ও ২০ শতাংশ চর্বি রয়েছে । যা প্রক্রিয়াজাত করে পশুখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। রোজেল ফুল নিয়ে এই গবেষণাটি করেছেন বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির। এ ছাড়া ফুলের বৃতি ব্যবহার করে মুখোরোচক জ্যাম, জেলি, চা, আচার, চাটনি ও বিভিন্ন পানীয় তৈরি করা যায় । গবেষকদের দাবি, এটি চা ও কফির বিকল্প হতে পারে। কারণ চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন দেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও রোজেলের রসে রয়েছে ক্যাফেইনের পরিবর্তে ভরপুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
ব্রুসেলা বায়োভার-৩ জীবাণু থেকে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন
দেশে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগটি ব্রুসেলা অ্যাবর্টাস নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে এ রোগ হয়। এই জীবাণুতে গবাদিপশু আক্রান্ত হলে গর্ভপাত হয়। যার ফলে আক্রান্ত প্রাণীর জন্য খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। তবে বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম ব্রুসেলা অ্যাবর্টাস বায়োভার-৩ জীবাণুটি পৃথকীকরণ এবং এর জেনেটিক বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়া তিনি প্রথমবারের মতো ইনএক্টিভেটেড (নিষ্ক্রিয় জীবাণু) ব্রুসেলা ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন। এই ভ্যাকসিনটি গবাদিপশুর প্রজনন সময় একবার প্রয়োগ করলে ৬ মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে । বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই ভ্যাকসিন প্রয়োগে প্রতি পশুতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা খরচ হবে। তবে সরকারি তত্ত্বাবধানে ব্যাপক উৎপাদন শুরু হলে তখন এটি খামারিরা নামমাত্র দামে পাবেন বলে দাবি গবেষকদের।
বাকৃবিতে হাঁসের প্লেগ রোগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন
দেশের হাঁসের মরণঘাতী রোগ হচ্ছে হাঁসের প্লেগ। এই রোগটি হারপেসভিরিডি পরিবারের এক ধরনের ডিএনএ ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক হাঁসের মধ্যে এক ধরনের জীবাণুর সংক্রমণের কারণে হঠাৎ হাঁসগুলো ছটফট করে মারা যায়। দীর্ঘ গবেষণার পর বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান হাঁসের প্লেগ রোগের নতুন দুই ধরনের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন। ভ্যাকসিন দুটি হলো ইনঅ্যাক্টিভেটেড (নিষ্ক্রিয়) ও লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড (দুর্বল অণুজীব) ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন হাঁসে একবার প্রয়োগ করলে ৬ মাস পর্যন্ত প্লেগের জীবাণু সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। প্রতি হাঁসে ভ্যাকসিনের খরচ মাত্র ২ টাকা।
সামুদ্রিক শৈবাল থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন
সামুদ্রিক শৈবালকে এক সময় সামুদ্রিক আগাছা হিসেবে গণ্য করা হতো, এখন সেটিই হয়ে উঠেছে প্রোটিন, সেলুলোজ ও খাদ্যের স্বাদবর্ধকের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বায়োরিফাইনারি বা জৈব শোধনাগার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাকৃবির প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হান্নান গ্র্যাসিলারিয়া টেনুইস্টিপিটাটা প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তর করেছেন। এই পদ্ধতিতে সামুদ্রিক শৈবালকে জলীয়করণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে নিষ্কাশনের মাধ্যমে রঞ্জক পদার্থ, অ্যাগার এবং সেলুলোজ এই তিনটি মূল্যবান উপাদান পাওয়া যায়। বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এগুলো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।
পশুপাখির হিট স্ট্রেস মোকাবিলায় এআই উদ্ভাবন
পরিবেশ দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের কারণে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে। এর ফলে বাড়ছে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা। ভূপৃষ্ঠের অতিরিক্ত তাপমাত্রা পশুপাখির হিট স্ট্রেস বা তাপদহন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে হঠাৎ করে পশুপাখি স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে। তবে বাকৃবির অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. রকিবুল ইসলাম খান একটি স্বয়ংক্রিয় সেন্সরনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ফার্ম মনিটরিং ও হিট স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খামারের তাপমাত্রা ও আর্দ্র্রতা পরিমাপ করে সঠিক সময়ে কুলিং ফ্যান চালু করে ঘরকে ঠান্ডা করবে। এটি একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খরচ কমাবে, অন্যদিকে পশুপাখির উৎপাদনও বাড়াবে। এই প্রযুক্তি প্রথমবার খামারে প্রতিস্থাপন করতে খরচ হবে মাত্র ২ হাজার ৫শ টাকা। পরবর্তীতে ক্লাউড সার্ভিসিং বাবদ বছরে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ হবে। খামারি শুধু ওয়েবসাইটে লগইন করে পশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সময়মতো পদক্ষেপ নেবেন।
গাবা সমৃদ্ধ খাদ্যে কমবে ব্রয়লারের মৃত্যু, বাড়বে ওজন
বাকৃবির ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া মুরগির স্ট্রেস কমানো এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে গাবা সমৃদ্ধ খাদ্য উদ্ভাবন করেছেন। এই খাদ্য গ্রহণের ফলে গড় ওজন সাধারণ ব্রয়লারের তুলনায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়। পাশাপাশি গরমে সৃষ্ট তাপমাত্রা জনিত চাপের (হিট-স্ট্রেস) লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাবা হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক অ্যামাইনো অ্যাসিড জাতীয় যৌগ, যা ব্রয়লারের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন কমায় তাপমাত্রা জনিত মানসিক ও শারীরিক চাপ কমে।
মুরগির মাংসে ই. আলভার্টি শনাক্ত
বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. জায়েদুর রহমান ব্রয়লার মুরগির মাংসে ই. আলভার্টি জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন। এই জীবাণুটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম। এটি খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে ‘শিগা টক্সিন’ নিঃসরণ করে। যা ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমি ও জ্বরের মতো অন্ত্রজনিত রোগ সৃষ্টি করতে পারে। খামার পর্যায়ে অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি, গাদাগাদি করে পালন, অস্বাস্থ্যকর উৎপাদন পদ্ধতি এবং অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মুরগিতে এই জীবাণুর উপস্থিতি দেখা যায়।
ব্রুসেলোসিস রোগের পূর্বাভাস শনাক্তে এআই উদ্ভাবন
বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগের পূর্বাভাস শনাক্তে নতুন এক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যয়বহুল ল্যাব টেস্ট ছাড়াই সহজে এ রোগের পূর্বাভাস এবং রোগ শনাক্ত করা যাবে । এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু খামারিরা ব্যবস্থাপনার এবং গবাদিপশুর রোগ সংক্রান্ত কিছু নমুনা প্রদান করলেই জানতে পারবেন প্রাণীটি এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না। এরপর তিনি খামারে উপযুক্ত জীবনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ব্রুসেলা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে রোগটি সহজে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন।
মুরগির দেহে এডিনোভাইরাসের নতুন সেরোটাইপ শনাক্ত
বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক মো. আলিমুল ইসলাম মুরগির দেহে এডিনোভাইরাসের নতুন সেরোটাইপ শনাক্ত করেছেন। এই জীবাণুর উপসর্গগুলো রানীক্ষেত ও বার্ড ফ্লুর মতো হলেও এর জিনোটাইপ ও সেরোটাইপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। গবেষক এই জীবাণুর দুটি সেরোটাইপ ৮বি এবং ১১ আবিষ্কার করেছেন। এর মধ্যে সেরোটাইপ ১১-এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। সাধারণত দুই সপ্তাহ বয়সী ব্রয়লার মুরগির এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। নতুন এই রোগটির নাম দিয়েছেন ইনক্লুশন বডি হেপাটাইটিস (আইবিএইচ)। যা ফাউল অ্যাডেনোভাইরাস সংক্রমণের ফলে হয়ে থাকে। প্রাথমিকভাবে এই জীবাণুর প্রকোপ প্রতিরোধে একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা হয়েছে।
৩এফ৪ডি সেচ পদ্ধতিতে চালে আর্সেনিক কমবে ৪০ শতাংশ
বাকৃবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম চালের আর্সেনিকের মাত্রা কমাতে ৩এফ৪ডি সেচ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এই পদ্ধতিতে ধানের জমি পর্যায়ক্রমে তিনদিন ভেজানো ও চারদিন শুকনো রাখা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে এতে চালে অজৈব আর্সেনিকের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসে। এ ছাড়া এই পদ্ধতিতে সেচের জন্য ব্যবহৃত পানি ৬৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় হয়।
দেশের নদীতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্ফোরণ
বাকৃবির গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে প্রতি বর্গ কিলোমিটার পানিতে ২৫ লাখেরও বেশি ভাসমান মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নদীর তলদেশের প্রতি কেজি পলিতে ৪৫০টি পর্যন্ত এই ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যায়। এর অন্যতম কারণ, প্রতিবেশী দেশের দৈনিক ৭৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য বিভিন্ন নদীর অববাহিকার মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করছে। ফলে নদীগুলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই গবেষণাটি করেছেন বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ। এই প্লাস্টিক কণা অন্ত্রের প্রদাহ সৃষ্টি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। এ ছাড়া ক্ষুদ্র এই কণা যকৃত ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের স্বাভাবিক কাজেও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এই ক্ষতির প্রভাব থেকে বাচঁতে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করেছেন গবেষকরা ।
বাউব্রেনিয়াম সামাজিক মাধ্যম উদ্ভাবন
বাকৃবির তিন শিক্ষার্থী নতুন এক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বাউব্রেনিয়াম তৈরি করেছেন। যেখানে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গঠনমূলক অভিব্যক্তি ও উপদেশ দিতে পারবেন। এ ছাড়া পাশ করে যাওয়া শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারের উপদেশ দিতে পারবেন। এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে গোপন বার্তা পাঠাতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা পোস্ট করতে পারবেন শিক্ষকদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য। যা শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন এবং সার্বিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে । ভবিষ্যতে এতে ক্লাসের সময়সূচি, রিয়েল-টাইম বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, একাডেমিক ক্যালেন্ডার, অফিসিয়াল নোটিশ ও ক্যাম্পাসের সংবাদ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি উদ্ভাবন করেছেন বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের বায়োইনফরমেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তিন শিক্ষার্থী। তারা হলেন এ.কে.এম. ফজলে হাসান রাব্বি নূর, মোহাম্মদ ফাহাদ হাসান ও মোহাম্মদ দিদারুল আনোয়ার আফিফ।
ভাসমান খাঁচায় ভেটকি চাষের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন
বাকৃবির ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান সমুদ্রে ভাসমান খাঁচায় বাকৃবির ল্যাবে প্রস্তুত সম্পূরক খাদ্য ব্যবহার করে নতুন পদ্ধতিতে ভেটকি চাষে সাফল্য অর্জন করেছেন। এই পদ্ধতিতে মাছ চাষে দ্বিগুণ লাভ হয় এবং প্রোটিনের পরিমাণও বেশি। এটি সুন্দরবনের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান তৈরীর মাধ্যমে ভাগ্য বদলে দিবে। এ পদ্ধতিতে খাঁচায় আবদ্ধ মাছকে ধীরে ধীরে সম্পূরক খাদ্যে অভ্যস্ত করা হয়। নদীতে পানিপ্রবাহ থাকার ফলে মাছের বিপাকীয় বর্জ্য ও অতিরিক্ত খাদ্য মাছের ক্ষতি করে না। বরং তা নদীতে শৈবালের পরিমাণ বাড়ায় এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যও উন্নত হয়। এই মাছের দেহে উচ্চ মানের আমিষ, ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড থাকায় রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায় ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া এতে ভিটামিন এ, বি এবং ক্যালসিয়ামসহ নানা ধরনের মিনারেল রয়েছে।
এক্সাম হল ফাইন্ডার অ্যাপ উদ্ভাবন
বাকৃবির বায়োইনফরমেটিকস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিক হাওলাদার, তৃতীয় বর্ষের মুহাম্মদ ইশমামুল হক ও দ্বিতীয় বর্ষের মো. আসিফুজ্জামান ‘এক্সাম হল ফাইন্ডার’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অ্যাপ উদ্ভাবন করেছেন। এই অ্যাপে বাকৃবি কেন্দ্রে কৃষি গুচ্ছে অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীরা মাত্র তিনটি ক্লিকেই পরীক্ষা কক্ষের অবস্থান জানতে পারবেন। অ্যাপে রোল নম্বর ও কক্ষ নম্বর ইনপুট দিলেই জিপিএস এবং গুগল ম্যাপের সাহায্যে অ্যাপটি পরীক্ষার হলের দিকনির্দেশনা দেবে। আইসিটি সেল ও কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বিভাগের সার্বিক তত্ত¡াবধানে এই অ্যাপটি হালনাগাদ করা হয়েছে।
বাউ বিফস্টেক টমেটো-১
বাকৃবির কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বাউ বিফস্টেক টমেটো-১ উদ্ভাবন করেছেন। সাধারণত টমেটো দুই কোষবিশিষ্ট হলেও নতুন এই জাতের টমেটোতে অনেকগুলো কোষ বিন্যাস রয়েছে। এ ছাড়া কোষ বিন্যাসটি দেখতে গরুর মাংসের মতো হওয়ায় এটির নামকরণ করা হয়েছে ‘বাউ বিফস্টেক’। প্রতিটি ফল আকারে যেমন বড়, তেমনি পুষ্টিগুণেও অনন্য। মাত্র তিন মাসেই প্রতি হেক্টরে ৪০-৫০ টন ফলন দিতে সক্ষম। বার্গার তৈরিতেও এটি অত্যন্ত উপযোগী। কারণ এই ফলের মাত্র একটি স্লাইস পুরো বার্গারের জন্য যথেষ্ট।
হাঁসের নতুন জাত বাউ হাঁস
বাকৃবির পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল আলম ভূঁঞা নতুন এই বাউ হাঁসের জাতটি উদ্ভাবন করেছেন। দেশি ও বিদেশি হাঁসের সংকরায়নের মাধ্যমে এই হাঁস তৈরি করা হয়েছে। যা দেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী এবং রোগবালাইয়ের প্রতি বেশ সহনশীল। এই হাঁস মাত্র ৩ মাস বয়সে স্ত্রী ও পুরুষ হাঁস ভেদে ২ থেকে ২ দশমিক ৫ কেজি ওজনের হয় এবং বছরে ২২০ থেকে ২৩০টি ডিম দেয়। যেখানে দেশি হাঁস ৭০ থেকে ৮০টি ডিম দেয়। দ্রæত মাংস উৎপাদন ক্ষমতা, কম মৃত্যুহার এবং বাজারে ভালো দামের কারণে এটি খামারিদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ফলের মাছি নিধনে ফ্রুট ফ্লাই ট্র্যাপ প্রযুক্তি উদ্ভাবন
ফলের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন পেস্ট বা ফলের মাছি । এই পোকার আক্রামণ থেকে বাঁচতে চাষিরা ঘনঘন কীটনাশক ব্যবহার করেন। যা একদিকে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং উৎপাদন খরচ বাড়ায়। চাষিদের এই সমস্যা সমাধানে বাকৃবির কীটতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান ফ্রুট ফ্লাই ট্র্যাপ নামে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই ট্র্যাপে লিউর নামক এক ধরনের পরিবেশবান্ধব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। যা বিভিন্ন প্রজাতির মাছিকে আকৃষ্ট করে ট্র্যাপের ভেতর প্রবেশ করতে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু ট্র্যাপের বিশেষ গঠনশৈলীর কারণে পোকাগুলো একবার ট্র্যাপে প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না, ফলে তারা ট্র্যাপের ভেতরে আটকে পড়ে এবং পরিশেষে মারা যায়। এই ধরনের একটি ট্র্যাপ বানাতে সর্বমোট ৫০ টাকা খরচ হয় । এ ছাড়া এটি পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বিটরুট
বাকৃবির কৃষি অনুষদের উদ্যানতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বিটরুটের জৈব, অজৈব সার এবং মালচিং সমন্বিত নতুন চাষ পদ্ধতিতে অধিক ফলনের সাফল্য অর্জন করেছেন। এখানে মালচিং হিসাবে কালো পলিথিন, অব্যবহৃত কচুরিপানা ও খড় ব্যবহার করা হয়। যা মাটির আদ্রর্তা ও পুষ্টি গুণাগুণ সংরক্ষিত করে। নতুন এই পদ্ধতিতে কম খরচে বীজ রোপনের ৫৫ দিন পর প্রতি হেক্টরে ২৫ টন ফলন পাওয়া সম্ভব। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই বিটরুটে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন, বিটাক্যারোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো উপাদান। যা ক্যান্সার কোষ ধ্বংসে সহায়ক। এ ছাড়া ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ভূমিকা রাখে।
চরাঞ্চলে কৃষকের জন্য তিন ফসলের শস্যবিন্যাস পদ্ধতি উদ্ভাবন
চরাঞ্চলের মাটি, জলবায়ু ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখে বাকৃবির কৃষিতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান তিন ফসলের নতুন শস্য বিন্যাস পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন । এই শস্য বিন্যাস পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হলে আগাছার পরিমাণ কমে এবং মাটিতে জৈব পদার্থ ও পুষ্টি উপাদান সংরক্ষিত থাকে। এই শস্যবিন্যাসে প্রধান ফসলের সাথে সাথী ফসল হিসেবে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, কালোজিরা, মেথি, ধনিয়া ও মটরশুঁটি চাষ করা হয়। যা একক ফসলের তুলনায় অধিক লাভজনক।
বেগুন চাষে রাসায়নিক নির্ভরতা কমাবে মেটিং ডিসরাপশন প্রযুক্তি
দেশের বেগুন চাষীদের ডগা ছিদ্রকারী সাদা মাছি, জাব পোকাসহ ৩৬ ধরনের পোকার আক্রমণের সম্মুখীন হতে হয়। এই ধরনের স্ত্রী পোকা পাতার নিচে, ডালপালা ও ফুলের ওপর ডিম পাড়ে। পরবর্তী সময়ে ডিম ফুটে লার্ভা বের হয়ে গাছের নরম অংশে ঢুকে সংরক্ষিত টিস্যু খেয়ে ফেলে। ফলে গাছের উপরের অংশ শুকিয়ে মারা যায়। এই সমস্যা সমাধানে বাকৃবি গবেষকরা মেটিং ডিসরাপশন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এটি এক পরিবেশবান্ধব কীট দমন প্রযুক্তি। যা কৃত্রিম উদ্দীপনার মাধ্যমে পোকাদের বিভ্রান্ত করে এবং তাদের সঙ্গী সন্ধান ও প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। এতে তাদের বংশবিস্তার বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কীটের সংখ্যাও কমে আসে।
প্রাকৃতিক স্ট্রুভাইট সমৃদ্ধ কম্পোস্ট সার
বাকৃবির পশুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান লেয়ার মুরগির বিষ্ঠা থেকে স্ট্রুভাইট সমৃদ্ধ কম্পোস্ট সার তৈরি করেছেন। লেয়ার মুরগির বিষ্ঠার সঙ্গে কাঠের গুঁড়া ও ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড মিশিয়ে বায়ু সঞ্চালনের মাধ্যমে এই কম্পোস্ট তৈরি করা হয়। এই কম্পোস্ট ব্যবহার করলে ভুট্টা ও পাকচং ঘাসের ফলন প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় বেশি হয়। স্ট্রুভাইট এক ধরনের দানাদার ফসফেট খনিজ, যা ম্যাগনেসিয়াম অ্যামোনিয়াম ফসফেটের সমন্বয়ে তৈরি।
বিনা চাষে আলুর ফলন, কমায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন
বাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের গবেষক ড. আহমদ খায়রুল হাসান ও এফ. এম. রুহুল কুদ্দুস বিনা চাষ (জিরো টিলেজ) পদ্ধতিতে দুই মৌসুম ধরে আলু উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন। এই পদ্ধতিতে মাটি চাষ বা আলগা না করেই নির্দিষ্ট ব্যবধানে আলুর বীজ বপন করা হয়, ফলে গ্রিনহাউসের নির্গমন কম হয়। এই বিনা চাষ ও জৈব সার পদ্ধতিতে চাষ করলে স্বাভাবিক রাসায়নিক চাষ পদ্ধতির চেয়ে হেক্টর প্রতি ২ টন বেশি ফলন পাওয়া গেছে।
রঙিন এক চালেই সুস্বাদু পায়েস, পিঠা ও পোলাও
বাকৃবির গবেষক ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির ও অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর হোসেন-২ রঙিন চাল নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, এই চাল শুধু পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ নয় বরং ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং নারীদের লৌহ অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। এ ছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, আঁশ, আয়রন এবং ভিটামিন বি রয়েছে। রঙিন চালে অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও বেশ কার্যকর। ৩৩টি রঙিন জাত বিদেশ থেকে সংগ্রহ করে ১১টি জিনোটাইপ বাছাই করে তিন বছর ধরে চলা এই গবেষণায় তারা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, কালো চালের জিঙ্ক এবং আয়রনের পরিমাণ সাদা চালের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশি। এ চালে প্রতি গ্রামে ১১-৭০ মিলিগ্রাম অ্যান্থোসায়ানিন এবং ৭-১০ মিলিগ্র্রাম ফেনল রয়েছে, যা সাদা চালে নগন্য পরিমাণে বিদ্যমান। এ ছাড়া এতে ফ্লাভোনয়েডের পরিমাণ প্রতি গ্রামে ৫-৬.৫ মিলিগ্রাম, যেখানে সাদা চালে তা মাত্র ৩.০-৪.৫ মিলিগ্রাম।
নারিকেল গাছে সাদামাছির নতুন প্রজাতি শনাক্ত
বাকৃবির কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গোপাল দাস বোন্দার নেস্টিং সাদামাছি (প্যারালেইরোডেস বোন্দারি) সাদামাছির নতুন প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। যশোর, খুলনা এবং বাগেরহাট অঞ্চলে এই গবেষণার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নতুন এই প্রজাতির সাদামাছি আকারে ছোট। নারিকেলের পরিচিত সাদা মাছির অর্ধেক হলেও প্রজনন ক্ষমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা দ্বিগুণ। এই মাছির সামনের ডানায় আড়াআড়ি চিহ্নযুক্ত ধূসর বর্ণের ব্যান্ড রয়েছে। অন্য সাদা মাছি যেখানে সুতাকার আকারে ডিম পাড়ে, সেখানে এটি মোম ও তুলা দিয়ে পাখির মতো বাসা তৈরি করে ডিম পাড়ে। এদের ডিম পাতার বোটার মতো অংশ থাকে যা অন্য সাদামাছিতে দেখা যায় না। এদের পিউপেরিয়াম সমতল এবং কোনো লেজের মতো বর্ধিত অংশ থাকে না।
মাংস উৎপাদনশীল বাকৃবি সংকর জাতের ছাগল উদ্ভাবন
বাকৃবির পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন বোয়ার জাতের পাঠার সঙ্গে দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগীর সংকরায়নের মাধ্যমে একটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। নতুন এই সংকর জাত ব্ল্যাক বেঙ্গলের সমপরিমাণ খাবারে দ্বিগুণ মাংস উৎপাদনে সক্ষম। পুরুষ ছাগল বছরে ২৬ কেজি এবং মাদি ছাগল ২৩ কেজি মাংস উৎপাদন করতে পারে। এ জাতটি রোগ প্রতিরোধী এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মতোই সহজে পালনযোগ্য। নতুন জাতের ছাগল দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ এর চামড়ার রঙ সাদা-কালো। এ জাতের বাচ্চার জন্মের সময় গড় ওজন প্রায় ২ কেজি, যেখানে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার গড় ওজন মাত্র ৮০০ গ্রাম।
মুরগির অ্যানিমিয়া ভাইরাস সনাক্ত
বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলজার হোসেন মুরগির দেহে অ্যানিমিয়া ভাইরাসের নতুন প্রজাতি সনাক্ত করেছেন। গবেষনায় ভাইরাসটির ঠচ৩ প্রোটিনে কিছু নতুন মিউটেশন সনাক্ত হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো রোগের তীব্রতা ও ইমিউনোসাপ্রেশন ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এই ভাইরাস মুরগির আক্রান্ত মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং খামারিদের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি করে।
ইখা