শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ওষুধ ব্যবসায়ী ও বিকাশ এজেন্ট খোকন চন্দ্র দাসকে (৫০) ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মাদারীপুর র্যাব-৮ ও কিশোরগঞ্জ র্যাব-১৪ এর যৌথ অভিযানে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন— শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
র্যাব-৮ মাদারীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার মীর মনির হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শরীয়তপুরের আলোচিত খোকন চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার তিন আসামিকে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কিশোরগঞ্জ থেকে মাদারীপুর র্যাব ক্যাম্পে আনা হচ্ছে। আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কেউরভাংগা বাজার থেকে গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকার বাসিন্দা খোকন চন্দ্র দাস সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। তিনি একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের এজেন্ট ছিলেন। তার কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
খোকন দাসের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে তার শরীরের ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদারের বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাস মারা যান।
এ বিষয় ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, ‘র্যাব তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখনো তাদের থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তর করা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।’
ইখা