মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলাকে আবার ‘ধনী ও নিরাপদ’ করে তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণকে তিনি ভালোবাসেন এবং তার প্রশাসনের উদ্যোগেই দেশটি নতুন করে স্থিতিশীলতার পথে এগোচ্ছে। এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিনিয়োগ, সামরিক অভিযান ও জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড
ট্রাম্প বলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলাকে আবার ‘ধনী ও নিরাপদ’ করে তুলছেন। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি ভেনেজুয়েলার জনগণকে ভালোবাসি এবং ইতোমধ্যেই ভেনেজুয়েলাকে আবার সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করে তুলছি। যারা এই কাজ সম্ভব করে তুলছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ।’
এর আগের দিন শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে এক ডজনেরও বেশি তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে ‘অনেক অর্থ আয়’ হতে যাচ্ছে। ওই বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আমাদের দারুণ একটি বৈঠক হয়েছে। তারা শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে তেল উত্তোলনে যাবে।’
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। ট্রাম্প বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সময়কালে তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলা এবং দেশটির তেলসম্পদ পরিচালনা করবে। পরে মাদুরো দম্পতিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও সেসময় তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এদিকে গত শুক্রবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি অ্যাকাউন্টে থাকা ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের অর্থ যেন কোনও ধরনের জব্দ বা বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে এসব তহবিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে সংরক্ষিত থাকে।
হোয়াইট হাউস জানায়, এই অর্থ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌম সম্পত্তি ও তা সরকারি ও কূটনৈতিক উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছে এবং কোনও বেসরকারি দাবির আওতায় পড়বে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কোনও পদক্ষেপ ঠেকাতেই ট্রাম্প এই উদ্যোগ নিয়েছেন।’
এদিকে মাদুরোর ছেলে ও সংসদ সদস্য নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা জানিয়েছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকলেও তার বাবা ভালো আছেন। শাসক দল পিএসইউভি প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি বলেন, তার বাবার ভাষায়— ‘আমরা ভালো আছি। আমরা লড়াকু মানুষ।’
এমআর-২