বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে চীন। গত বছর (২০২৫ সাল) দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য যুদ্ধের চাপ উতরে এমন রেকর্ড গড়েছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার মতো উদীয়মান বাজারে রপ্তানি বাড়িয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ চীন। এর ফলে ঐতিহাসিকভাবে চীনের সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমে গেলেও, সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বেইজিং। আর এতে করে চীনের কাছে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছেন ট্রাম্প।
চীনের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈদ্যুতিক বা বিদ্যুৎচালিত যান (ইভি), লিথিয়াম ব্যাটারি ও সৌর প্যানেলের মতো ফোটোভোলটাইক পণ্যে রপ্তানি ২৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে শিল্প রোবট ও উচ্চমানের যন্ত্রপাতিসহ উচ্চপ্রযুক্তি পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ১৩ শতাংশ।
চীনের কাস্টমস ব্যুরোর উপ-প্রশাসক ওয়াং জুন বলেন, ‘জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যেও চীন এগিয়ে গেছে।’ তার মতে, শক্তিশালী রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক সহনশীলতার প্রমাণ।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে চীনা পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ১৪ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৯ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকায় ৮ শতাংশ।
তবে এই বিশাল উদ্বৃত্ত নতুন করে বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশ অভিযোগ তুলেছে-কম দামের চীনা পণ্যের ঢল স্থানীয় শিল্প, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতাকে ‘অ-টেকসই' বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে, গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় নতুন শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা-ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নতুন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ-চীনকে আবারও চাপের মুখে ফেলতে পারে।
এবি