সারা দেশের মতো প্রায় এক মাস ধরে শুধু বরিশাল নয়, পুরো দক্ষিণাঞ্চলজুড়েই এলপি গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সাধারণ গৃহস্থের পাশাপাশি হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোও গ্যাস সংকটে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারছে না। ফলে একদিকে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পুঁজিতে টান পড়ছে।
অপরদিকে বিপুল সংখ্যক জনবল কর্মহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। ইতোমধ্যে অনেক রেস্টুরেন্টে জনবল ছাঁটাই শুরু হয়েছে। এছাড়াও গ্যাস সংকটে অনেক এলপিজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের পথে।
ভোলাতে দেশের বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ থাকলেও গত ৩০ বছরের অধিক সময়েও তা এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে জোটেনি। বিগত সরকার ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারে করে রাজধানীতে নিয়ে শিল্পখাতে ব্যবহার শুরু করলেও এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক খাতে তার কোনো ব্যবহার নেই।
দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ তাদের এই প্রাকৃতিক জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হলেও বিগত কোনো সরকারই বিষয়টি নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ থেকেছে। এমনকি ইতঃপূর্বে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ করলেও গত দুই বছর ধরে তাও বন্ধ রয়েছে। ফলে এলপিজি এখন পুরোপুরি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাধীন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা অজুহাতে গত কয়েক মাস ধরে বরিশাল অঞ্চলে এলপিজির সরবরাহ সীমিত করেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সাড়ে ১২ কেজি গ্যাস সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৩০ টাকা হলেও বেসরকারি বিপণন কোম্পানিগুলো তা ডিলার পর্যায়েই বিক্রি করছে ১ হাজার ৩৭০ থেকে ১ হাজার ৩৮০ টাকায়। ফলে খুচরা ডিলাররা ভোক্তাদের কাছে তা ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
ডিলারদের দাবি, দেশে গ্যাস বিপণনকারী ২০টি কোম্পানির অন্তত পাঁচটি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। অবশিষ্ট কোম্পানিগুলো সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে হ্রাস করেছে।
তবে সরকার নির্ধারিত দরের বেশি দামে বিক্রি করায় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতোমধ্যে ডিলারদের জরিমানা করায় তারা ধর্মঘটও করেছেন। ফলে প্রশাসন কিছুটা সরে এলেও বিপণন কোম্পানিগুলো কেন বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে, তা খতিয়ে দেখছে না প্রশাসন কিংবা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
এনআই