ভোলার লালমোহনে পারিবারিক কলহের জেরে রুনা (১৭) নামের এক কিশোরী গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় তার স্বামী জিহাদকে (২১) গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে ভোলার ইলিশা লঞ্চ ঘাটের ঢাকাগামী এমভি ফারহান-৯ লঞ্চ থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮ ও লালমোহন থানা পুলিশের একটি টিম।
এরআগে, একইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী রুনাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে তার স্বামী জিহাদ। ঘটনার পর লাপাত্তা হয় জিহাদ। পরে রাতে লালমোহন থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের একটি টিম অভিযান চালিয়ে ভোলার ইলিশা লঞ্চ ঘাটের ঢাকাগামী এমভি ফারহান -৯ লঞ্চ থেকে জিহাদকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর জিহাদ তার স্ত্রীকে হত্যায় দায় স্বীকার করেছেন। নিহত রুনা ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী মো. জিহাদ (২১) পার্শ্ববর্তী পাংগাশিয়া গ্রামের মৃত মো. রফিকের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৭ মাস আগে পারিবারিকভাবে জিহাদের সঙ্গে বিয়ে হয় রুনার। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলে আসছে। বুধবার সন্ধ্যায় রুনার চাচতো দাদী রুনাকে ঘর থেকে ডাকতে গেলে বিছানায় কম্বল মোড়ানো অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি রুনাকে ডাক দিলে তাতে সাড়া না পেয়ে কাছে গেলে তার মুখের উপর বালিশ ও মুখে লালা দেখতে পান। পরে স্থানীয় চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান। এ ঘটনার পর নিহত রুনার বাবা বাদী হয়ে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, ঘটনার পর রুনার বাবা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর রাতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব, পুলিশসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টিম অভিযান চালিয়ে তাকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চ থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞেসাবাদের স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
ইখা