এক সময় আয়ের উৎস ছিল ব্রিটিশ আমলের এই টালি তৈরির মেশিন। লোহার তৈরি এই যন্ত্রে মাটি দিয়ে টালি তৈরি করা হতো, যা বসবাসের ঘরের চালে ব্যবহার করা হতো। বর্তমান সময়ে টিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাটির টালির ব্যবহার এখন নেই বললেই চলে।
অথচ কয়েক বছর আগেও প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই টালির তৈরি ঘরবাড়ি দেখা যেত। তবে টালি তৈরির মেশিন সচরাচর দেখা যেত না। প্রায় ৩২০ বছর আগের একটি টালি তৈরির মেশিন কলকাতা থেকে খুলনায় আনা হয়। সেখান থেকে নৌকাযোগে মাগুরা সদর উপজেলার বরই গ্রামের তারক পাল এটি তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং ব্যবহার শুরু করেন।
প্রায় ৩০ বছর আগে বরই পালপাড়া গ্রামে এই টালি তৈরির মেশিন নিয়ে আসেন তারক পাল। মাটি দিয়ে টালি তৈরি করে তিনি জেলা ও জেলার বাইরেও বিক্রি করতেন। বর্তমানে এই টালি তৈরির মেশিনটি বরই পালপাড়া গ্রামের তারক পালের নাতি অশোক পালের বাড়ির উঠানে অক্ষত অবস্থায় পড়ে আছে।
টালি তৈরির মেশিন সম্পর্কে জানতে চাইলে অশোক পাল জানান, তার দাদু প্রায় ৩০ বছর আগে মেশিনটি নিয়ে আসেন। এই মেশিন দিয়ে টালি তৈরি করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ হতো। কর্মসংস্থান হিসেবে মাটি দিয়ে টালি তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে তারা উপার্জন করতেন। দূর-দূরান্তেও টালি পাঠানো হতো। সে সময় টালির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কালের বিবর্তনে টালির ব্যবহার কমে গেলেও মেশিনটি এখনও সচল রয়েছে, যদিও বর্তমানে আর ব্যবহার করা হয় না। মেশিনটির বয়স প্রায় ৩২০ বছর, যা ব্রিটিশ আমলে ব্যবহৃত হতো। পরে তার দাদু এটি কলকাতা থেকে নিয়ে আসেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অশোক পালের বাড়ির উঠানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে এই মেশিনটি। এটি সম্পূর্ণ লোহার তৈরি। উপরে রয়েছে একটি লোহার হাতল, যা ঘোরানোর কাজে ব্যবহার করা হয়। মেশিনের গায়ে কিছুটা জং ধরলেও তা ক্ষয়ে যায়নি। মেশিনের মাঝখানে একটি প্লেট রয়েছে, যার মধ্যে কাদামাটি রাখা হয়। পরে হাতল ঘোরালে মাটি চ্যাপ্টা হয়ে টালির আকার ধারণ করে। এরপর আগুনে পুড়িয়ে তা শক্ত টালিতে পরিণত করা হয়। এই টালি অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই।
পুরোনো এই যন্ত্রটি দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ অশোক পালের বাড়িতে আসেন। অনেকেই জানান, তারা আগে কখনো এ ধরনের মেশিন দেখেননি। মাগুরায় এমন একটি প্রাচীন মেশিন থাকায় আগ্রহ নিয়ে অনেক দর্শনার্থী এটি দেখতে আসছেন।
যন্ত্রটি বিক্রি না করে নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে অশোক পালের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা জানান, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হওয়ায় বিক্রি করার কোনো চিন্তা নেই।
এনআই