ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ মারিয়া করিনা মাচাদোর দেশত্যাগ ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি উদ্ধারকারী দল সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখানো হয়েছে- কীভাবে গত মাসে গোপনে ভেনেজুয়েলা ছাড়তে সহায়তা করা হয়েছিল তাকে।
‘গ্রে বুল’ নামের ওই উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত ডিসেম্বরের শুরুতে মাচাদো দেশ ছাড়েন। নরওয়ের অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করাই ছিল তার যাত্রার উদ্দেশ্য।
ভিডিওতে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে একটি নৌকায় ক্যারিবীয় সাগরের নির্ধারিত একটি স্থানে পৌঁছান মাচাদো। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল গ্রে বুল দলের আরেকটি নৌকা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক বিশেষ বাহিনীর সদস্য ব্রায়ান স্টার্ন নিজে উপস্থিত ছিলেন এই অভিযানে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রায় দুই মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা যায়, গভীর রাতে মাচাদোর দ্বিতীয় নৌকায় ওঠার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। দূর থেকে একটি নৌকার আলো দেখতে পেয়ে স্টার্নকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা আসছে।’
পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্টার্ন মাচাদোকে নৌকায় উঠতে সহায়তা করেন। অন্ধকার ও উত্তাল পরিবেশের কারণে সেই মুহূর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও কথোপকথন শোনা যায়।
নৌকায় ওঠার সময় স্টার্ন বলেন, ‘হাই মারিয়া, আমি ব্রায়ান। তোমাকে পেয়ে ভালো লাগছে।’
জবাবে মাচাদো বলেন, ‘এত ভেজা আর এত ঠান্ডা।’
ভিডিওতে মাচাদোকে কালো জ্যাকেট ও টুপি পরা অবস্থায় দেখা যায়। ক্যামেরার সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি মারিয়া করিনা মাচাদো। আমি বেঁচে আছি, নিরাপদে আছি এবং গ্রে বুলের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
এরপর ভিডিওটি শেষ হয় স্টার্ন এবং তার দলের সাথে মাচাদোর বিভিন্ন স্থিরচিত্র দিয়ে। ছবিগুলোতে স্টার্নের কণ্ঠস্বর শোনা যায়। যা নিশ্চিত করে যে তারা তার কাছে পৌঁছেছে।
এর আগে ব্রায়ান স্টার্ন জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ ও শীতল যাত্রার পর ভোরের দিকে তারা নিরাপদে তীরে পৌঁছান। সেখান থেকে মাচাদো নরওয়ের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন। অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও ছিল তার।
তবে শুক্রবার এই অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান মাচাদো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি। এর আগেও তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা পেয়েছেন, তবে তা নিয়ে তখনই কিছু বলতে চাননি।
উল্লেখ্য, মারিয়া করিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী। গত ১০ ডিসেম্বর নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য তিনি নরওয়ের অসলোতে যান। সে সময় তিনি নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় আত্মগোপনে ছিলেন।
এর আগে ভেনেজুয়েলার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছিল, মাচাদোর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্ত চলমান। এসব মামলার প্রেক্ষাপটে তিনি দেশ ছাড়লে তাকে ‘পলাতক’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
আরডি