বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। দারুণ এই জয়ের ফলে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রংপুর। হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। প্লে-অফের চার দলও চূড়ান্ত হয়ে গেল - রাজশাহী ওয়ারিয়র্স, চট্টগ্রাম রয়্যালস, সিলেট টাইটান্স এবং রংপুর রাইডার্স।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোভাবেই করে রংপুর। ডেভিড মালানের সাথে ওপেনিংয়ে জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয়। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে এগিয়েছেন দুজন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৫০ রান তোলে রংপুর।
মালান-হৃদয়ের জুটিতে এগিয়েছে রংপুর রাইডার্সের ইনিংস। সময়ের সাথে সাথে রানের গতি বাড়িয়েছেন দুজন। কৌশলী ব্যাটিংয়ে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। ঢাকার বোলারদের পিটিয়ে তক্তা বানিয়েছেন মালান এবং হৃদয়। ফিফটি ছুঁয়েছেন দুজনই। ওপেনিং জুটিতে রান এসেছে ১২৬। ৪৯ বলে ৭৮ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেছেন মালান।
হৃদয় আরও কিছুক্ষণ টিকে ছিলেন। ফিফটির পরেও টেনেছেন দলের ইনিংস। দলীয় ১৫৯ রানের মাথাতে ৪৬ বলে ৬২ রান করে বিদায় নেন হৃদয়।
দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় রংপুর। তিনে নামা কাইল মেয়ার্স ১৬ বলে ২৪ রান করেন। ৭ বলে ৬ রান করে টিকে ছিলেন খুশদিল শাহ। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮১ রান তুলে থেমেছে রংপুর রাইডার্স।
ঢাকার হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ এবং মারুফ মৃধা।
জবাব দিতে নেমে উসমান খানের ব্যাটে চড়ে ভালো শুরু পায় ঢাকা ক্যাপিটালস। আরেক ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মামুন যদিও সুবিধা করতে পারেননি। দলের ১৮ রানের মাথাতে গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফিরে যান মামুন।
ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ১৮ বলে ৩১ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ৪৪ রানের মাথাতে থেমেছেন উসমান। তিনে নামা সাইফ হাসানও সুবিধা করতে পারেননি। ৬ বলে ১২ রান করা সাইফ থামেন পরের ওভারেই। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তোলে ঢাকা।
চারে নেমে সাব্বির রহমান কিছুটা আশা দেখিয়েছেন। পরে করেছেন হতাশ। ৯ বলে ৮ রান করা সাব্বির থামেন পাওয়ারপ্লে শেষেই। দ্রুত একের পর এক উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় ঢাকা। ধীর হয়ে যায় রানের গতি। ক্রিজে জুটি বাঁধেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন।
দুজনের কেউই সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। মিঠুন ২৯ বল খেলে করেছেন ২৫ রান। ১১ বলে ১০ রান করেন শামীম। শেষ দিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং ইমাদ ওয়াসিমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে গতি পায় ঢাকার ইনিংস।
শেষ ২ ওভারে দরকার ছিল ৩৫ রান। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই ইমাদকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। সেই ওভারে দেন ৪ রান। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৩১ রান। ১৯ রান নিতে পারে ঢাকা। ফিফটি হাঁকান সাইফউদ্দিন। ১১ রানে জয়লাভ করে রংপুর রাইডার্স। ৩০ বলে ৫৮ রান করে টিকে ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১৭০ রান করে থামে ঢাকার ইনিংস।
রংপুরের হয়ে ১১ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন নাহিদ রানা। ২ উইকেট তোলেন ফাহিম আশরাফ। ১টি করে উইকেট তুলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান এবং রাকিবুল হাসান।
আরডি