শরীয়তপুরের সখিপুর থানার ওসি মো. নাজিম উদ্দিন শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সখিপুর বাজারে খোলা জ্বালানি তেল (পেট্রোল) বিক্রি বন্ধে সতর্কতামূলক নির্দেশ দিতে বাজারে যান। এ সময় বাজারে ঘোরাফেরা করছিলেন সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোমেল সরদার। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ওসি নাজিম উদ্দিন তাকে ডেকে পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে সোমেল সরদার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
ওসির সহযোগী ও একজন এসআইয়ের সহায়তায় তাকে ধরার চেষ্টা করা হলে তিনি ওসি নাজিম উদ্দিনকে সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যান। আহত অবস্থায় সঙ্গীয় ফোর্স ও স্থানীয় লোকজন মিলে তাকে একটি স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আঘাতের কারণে অন্যান্য জখমের পাশাপাশি ওসির বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুলের নখ উঠে যায়।
এ বিষয়ে সাজেদা জাব্বার হাসপাতালের চিকিৎসক সুজন চন্দ্র দাস বলেন, “ওসি আঙুলে জখম নিয়ে আমাদের এখানে আসেন। আমরা তাকে চিকিৎসা দিয়েছি। তার কনিষ্ঠ আঙুলের নখ উঠে গেছে।”
এ বিষয়ে ওসি নাজিম উদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমি বাজারে খোলা জ্বালানি তেল (পেট্রোল) বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিতে গিয়েছিলাম। আমার পিএস আমাকে জানান, উনিই সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোমেল সরদার। তখন আমি তার পরিচয় জানতে কথা বলতে এগিয়ে যাই। তার রাজনৈতিক পরিচয় জিজ্ঞেস করতেই আমাকে সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যায়। তার আঘাতে আমার কনিষ্ঠ আঙুলের নখ উপড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি যে নির্দেশ দেবেন, তাই করা হবে।”
এ বিষয়ে সখিপুর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি সোমেল সরদারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা এটিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতির উদাহরণ বলে মত প্রকাশ করেছেন।
এফএস