এইমাত্র
  • ফ্রান্সের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের
  • বিক্ষোভে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করছে ইরান
  • রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালস
  • উত্তর কোরিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত
  • হুজুরকে চেয়ার এগিয়ে দিলেন তারেক রহমান
  • যশোরে মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে খুনি নিহত
  • ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সোনার দামে আবারও রেকর্ড
  • বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল যুব টাইগারদের ম্যাচ
  • চট্টগ্রামে মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, তোলপাড়
  • নোবিপ্রবিতে সিগারেট ও নেশাজাতীয় দ্রব্যে বিক্রি নিষিদ্ধ
  • আজ মঙ্গলবার, ৭ মাঘ, ১৪৩২ | ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    চট্টগ্রামে মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, তোলপাড়

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

    চট্টগ্রামে মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ, তোলপাড়

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম

    চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার একটি দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। 

    অভিযোগ আছে, ভুজপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আকরামুল হক ভুয়া এসএসসি, এইচএসসি ও বিবিএ সনদের ভিত্তিতে দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় অভিযোগের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

    বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক লিখিত পত্রে মো. আকরামুল হকের এসএসসি ও এইচএসসি সনদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে ‘FALSE’ বা অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাউবির সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে, ওই সনদগুলোর আইডি নম্বর অনুযায়ী তাদের ডাটাবেজে কোনো শিক্ষার্থীর তথ্য পাওয়া যায়নি।

    বাউবির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দাখিল মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র স্বীকৃত কোনো সনদ ভুয়া প্রমাণিত হলে সেটি প্রশাসনিক ও আইনগত, উভয় দিক থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখার সুযোগ রয়েছে।

    এসএসসি ও এইচএসসি সনদের পাশাপাশি মো. আকরামুল হকের নামে প্রচলিত বিবিএ ডিগ্রির সত্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া লিখিত তথ্যে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট আইডি নম্বরের বিপরীতে তাদের রেকর্ডে কোনো শিক্ষার্থীর অস্তিত্ব নেই।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডাটাবেজ যাচাই করে দেখা গেছে, উল্লিখিত আইডির সঙ্গে কোনো একাডেমিক তথ্য সংরক্ষিত নেই। ফলে ওই ডিগ্রিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, এসব শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতেই মো. আকরামুল হক দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাবের কারণে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

    একটি দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকতে হলে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশাসনিক মানদণ্ড পূরণের কথা থাকলেও, সেসব শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।

    স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের কেউ কেউ বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে এমন অভিযোগ শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আকরামুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এ বিষয়ে দাঁতমারা মঈনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ফটিকছড়ি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম রেজা বলেন, শিক্ষাগত সনদ ভুয়া প্রমাণিত হলে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদে বহাল থাকা বিধিসম্মত নয়। বিষয়টি যাচাই করে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এই প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা তার কার্যালয়ের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

    আরডি

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…