সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুয়া তথ্য, গুজব ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রার্থীদের হেনস্তার ঘটনাও বাড়ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার এমনই এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিএনপি সমর্থিত চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরীকে ঘিরে। অনলাইনে তার নাম ব্যবহার করে একটি তথাকথিত ‘ভোটার সম্মানি রশিদ’ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা ও রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ওই রশিদে দাবি করা হয়, সাহেদা বেগম নামের এক নারী ভোটারকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। রশিদে উল্লেখ রয়েছে, তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারির জাহানাবাদ এলাকার ভোটার এবং রশিদটি ২৬ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়েছে। রশিদে ভোটারের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংযুক্ত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই শুরু হয়।
সময়ের কন্ঠস্বরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া রশিদে যে বিকাশ নম্বরটি দেওয়া হয়েছে, সেটি কোনো ব্যক্তিগত লেনদেনের নম্বর নয়; বরং একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বর। সংশ্লিষ্ট নম্বরটি যাচাই করতে গিয়ে বিকাশের সিস্টেম থেকে বার্তা আসে, ‘এই নম্বরটি লেনদেনের জন্য উপযুক্ত নয়। অনুগ্রহ করে সঠিক নম্বর দিন।’ এতে রশিদে দেখানো লেনদেনের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ছাড়া রশিদে উল্লেখিত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যাচাই করে দেখা যায়, সেটিও সঠিক নয়। নম্বরটির শুরুতে জন্মসাল উল্লেখ থাকায় এটি বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হলেও নম্বরটি মোট ১৫ সংখ্যার। অথচ বাংলাদেশে বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর হয় ১০ অথবা ১৭ সংখ্যার। নির্বাচন কমিশনের সিস্টেমে যাচাই করলে বার্তা আসে ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অবশ্যই ১০ অথবা ১৭ সংখ্যার হতে হবে। এসব যাচাইয়ে রশিদটির তথ্যগত অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আসলাম চৌধুরী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, তিনি রশিদের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি আপিলের শুনানি হয়েছে, সেখানে তারা হেরে গেছে। এরপর থেকেই এ ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তার জনপ্রিয়তা বাড়ায় একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও করেন।
এ ঘটনায় নির্বাচন প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছেন আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরছালিন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘Md Ah Rakib’ নামের একটি ফেসবুক আইডিসহ একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ‘ভোটার সম্মানি রশিদ’ শিরোনামে একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন স্লিপ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
নির্বাচনী এজেন্ট মোহাম্মদ মোরছালিন আবেদনে বলেন, শুধু একটি রশিদ নয়, বিভিন্ন ধরনের পোস্ট, মন্তব্য ও গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী পরিস্থিতিতে এ ধরনের ভুয়া কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী এবং এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। নির্বাচনী এজেন্টের দাবি অনুযায়ী, তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের কুৎসা বা নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়নি।
এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
ইখা