নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে চলমান সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ওরা নারীদের দিতে চায় ফ্যামিলি কার্ড, কিন্তু ওরা নারীদের গায়ে দেয় হাত।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বাদ জুমা লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সদর উপজেলার আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বারবার দেখেছি—নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে, তাদের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। নারীর মর্যাদা রক্ষায় আমরা আপসহীন। কেউ যদি নারীদের সম্মান বিনষ্ট করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা হবে, যেখানে নারীরা নিরাপদ থাকবে, যথাযথ সম্মান পাবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে এই দেশ তুলে দিতে চাই। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই—যেখানে থাকবে না হত্যা, ধর্ষণ, মাদক, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি; থাকবে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজব্যবস্থা। আমরা ক্ষমতায় গেলে কারও প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে ন্যায়বিচার ও মানবিকতার আলোকে।”
জনসভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম-নির্যাতন নির্মূল করতেই ১১ দলীয় ঐক্যজোট গঠন করা হয়েছে। তারা লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার কথা তুলে ধরে নদীবন্দর স্থাপন, রেললাইন চালু, আধুনিক হাসপাতাল ও একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, ডাকসু ভিপি আবু সাদেক কায়েম, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি এবং জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
জনসভা সফল করতে লক্ষ্মীপুর জেলা ও উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
জাকির/এনআই