নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পিএইচডি ফেলোশিপ ব্যবস্থাপনায় চরম অসঙ্গতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে রিসার্চ সেলের বিরুদ্ধে । একদিকে গবেষণা নীতিমালা, ফেলোশিপ এগ্রিমেন্ট ও রিসার্চ ইথিক্স নিয়ে ধারাবাহিক প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও,
দীর্ঘ ৭ মাস ধরে ফেলোশিপের অর্থ পাচ্ছেন না পিএইচডি গবেষকরা। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার পাশাপাশি গবেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
রিসার্চ সেল সূত্রে পাওয়া অফিসিয়াল নোটিশ অনুযায়ী, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নোবিপ্রবি রিসার্চ সেলের উদ্যোগে ‘রিসার্চ ইথিক্স ও পিএইচডি ফেলোশিপ এগ্রিমেন্ট’ সংক্রান্ত ওয়ার্কশপ ও সেশন আয়োজন করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে দুইবার নোটিশ দিয়ে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ এ করার কথা ছিলো। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ১৯ তারিখেও সেশনটি আয়োজন করা হয় নাই।
তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব কার্যক্রম চলাকালীন সময়েই একাধিক পিএইচডি গবেষক দীর্ঘ ৭ মাস ধরে ফেলোশিপের অর্থ পাননি। ফলে প্রশাসনের অগ্রাধিকার ও বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পিএইচডি গবেষক জানান, তিনি ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর গবেষণা কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম বছর থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে গেছেন। দিন রাত এক করে, এমনকি ঈদের ছুটিও ক্যাম্পাসে কাটাতে হয়েছে গবেষণার চাপে। তার গবেষণার অগ্রগতি পিএইচডি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সন্তোষজনক বলে মূল্যায়ন করেছেন। প্রথম বছরের কাজের ভিত্তিতে তিনি তিনটি ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি একটি রিভিউ পেপার ও একটি ল্যাবভিত্তিক গবেষণাপত্র বর্তমানে Q1 মানের আন্তর্জাতিক জার্নালে ‘under review’ অবস্থায় রয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি পিএইচডি বোর্ডের সামনে সফলভাবে প্রথম বছরের কাজ উপস্থাপন করেন। বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের গবেষণা চলমান, যার প্রায় ৫০ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক সংকটে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্যমতে, গবেষণার প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে গিয়ে সুপারভাইজারকে ব্যক্তিগতভাবে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে, যা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে গবেষক নিজেও প্রায় ৫০ হাজার টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করেছেন।
তিনি আরোও জানান, প্রায় ৩ মাস আগে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার গবেষণা ব্যয়ের বাউচার রিসার্চ সেলে জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি বা লিখিত জবাব পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য বরাদ্দ অর্থের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। গবেষণাসংক্রান্ত কাজে তাইওয়ানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা না থাকায় তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, টানা ৭ মাস ধরে নিয়মিত ফেলোশিপের অর্থ প্রদান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
অন্য আরেকজন পিএইচডি স্টুডেন্ট বলেন- পিএইচডি ফেলোশিপ পাওয়া গিয়েছিল শেষ জুন ২০২৫ এর পরে ৭ মাস হয়ে গিয়েছে, ফেলোশিপের কোন আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। জানুয়ারী মাসে ১২,১৪,১৯ তারিখ ৩ টা নোটিশ হয়েছে। কোন আপডেট পাওয়া যাচ্ছে না। ফেলোশিপ এর অর্থ এবং বার্ষিক অর্থায়নের না পাওয়ার কারণে গবেষণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন- আমরা তাদের সাথে এগ্রিমেন্ট এ যাচ্ছি। এগ্রিমেন্ট ছাড়া টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না কারণ যদি মাঝখানে কেউ পিএইচডি ফেলোশিপ ছেড়ে চলে যায় তাহলে টাকার কি হবে,যেহেতু এটা সরকারি টাকা এটার কি হবে। এই জন্য আমরা তাদের সাথে একটা এগ্রিমেন্ট এ যাচ্ছি। এগ্রিমেন্টটা প্রক্রিয়াধীন আছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয় এগ্রিমেন্ট করবে। পিএইচডি ফেলোশিপ এর সাথে রিসার্চ সেলের একটা এগ্রিমেন্ট হবে যে এরা যদি মাঝপথে ইনকমপ্লিটলি কাজটা রেখে দিয়ে চলে যায় তাহলে তাহলে টাকার কি হবে যেহেতু এটা সরকারি টাকা। এই জন্য এগ্রিমেন্টটা হবে।
৭ মাস ধরে টাকা না পাওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন- পিএইচডি ফেলোশিপ এর টাকা দেওয়ার বিষয়টি অফিসিয়াল প্রসেস এ আছে। আগামী বৃহস্পতিবার দেওয়ার কথা।পিএইচডি শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার বিষয়ে তিনি আরোও বলেন, আমরা আমাদের আন্ডার গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা দিতে পারতেছি নাহ, পিএইচডি স্টুডেন্টদের তো দেওয়ার কথায় নাহ। তারপরে আমরা লাস্ট মিটিংয়ে আমাদের আবাসিক এলাকার কিছু ফ্ল্যাটকে পিএইচডি স্টুডেন্টদেরকে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য চিন্তা করছি, এই বিষয়ে নীতিমালা হচ্ছে। নীতিমালা হলে আমরা সেই আলোকে ব্যবস্থা করবো।
পিএম