কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা–হোমনা সড়কসংলগ্ন গৌরীপুর বাজারের পূর্ব পাশের কাঠপট্টি এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ নেয়।
খবর পেয়ে প্রথমে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে গোমতী নদী থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। তবে ফার্নিচারের দোকানে দাহ্য রাসায়নিক ও রঙের কেমিক্যাল থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে হোমনা ও চান্দিনা উপজেলা থেকে আরও ৬টি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর অভিযানে যোগ দেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে ১০টি ফার্নিচারের দোকান, ১টি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, ২টি অটোরিকশা গ্যারেজ, ৪টি মুদি দোকান এবং চাল ও রমজান উপলক্ষে মজুত রাখা খেজুরের একটি গোডাউনসহ মোট ২৫টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, “আগুনে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু ফার্নিচার মার্কেটেই কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল।”
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনা থেকে আসা মোট ৯টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হালিম জানান, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।
এদিকে, ঘটনাস্থলে সকালে এসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নেন কুমিল্লা-১ আসনের জামায়াত সমর্থিত এমপি প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে গৌরীপুরে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গৌরীপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপশহর; এখানে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা-বাণিজ্য হয় এবং দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। অথচ দুর্ঘটনার সময় নিকটবর্তী থানা থেকে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে দেরি হয়, যা ঝুঁকিপূর্ণ।’
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
ইখা